খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ঝুঁকিতে বনের পরিবেশ: প্লাস্টিকের চাপে সুন্দরবন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঝুঁকিতে বনের পরিবেশ: প্লাস্টিকের চাপে সুন্দরবন

ঝুঁকিতে বনের পরিবেশ: প্লাস্টিকের চাপে সুন্দরবন

জাতীয় ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন বর্তমানে মারাত্মক প্লাস্টিক দূষণের কবলে পড়েছে। বনের ভেতরে কটকা, কচিখালী, জামতলা ও ডিমের চরসহ বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে পলিথিন, নাইলন জাল, প্লাস্টিকের বোতল এবং কর্কশিটের মতো ক্ষতিকর বর্জ্য। জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা এসব বর্জ্য উদ্ভিদের বীজের সঙ্গে আটকে গিয়ে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। স্থানীয় বনজীবীরা জানিয়েছেন যে বনের যেসব স্থানে প্লাস্টিকের আধিক্য বেশি, সেখানে কাঁকড়া ও শামুকের মতো তলদেশবাসী প্রাণীর উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত জাল এবং প্লাস্টিকের দড়ি নতুন চারার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে গাছের শ্বাসমূল পলিথিনে ঢাকা পড়ে যাওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবে নতুন চারা জন্মানোর হারও হ্রাস পাচ্ছে। দৃশ্যমান এই দূষণের পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য আরও বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। বড় প্লাস্টিক বর্জ্য ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় বনের জলজ বাস্তুতন্ত্র এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় সুন্দরবনের জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের প্রাণীর দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভয়াবহ উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সুন্দরবনের খাদ্যজালের বিভিন্ন স্তরের প্রাণীর পেটে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করেছে। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সুন্দরবনের নদী ও খালের পানি, মাটি এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রজননক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশবিদ ও গবেষকরা এই পরিস্থিতি উত্তরণে দৃশ্যমান প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন যে জনবলসংকটের মধ্যেও তাঁরা নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার ও পর্যটকদের সচেতন করার চেষ্টা করছেন। মূলত সাগর ও নদীপথ দিয়ে বাইরে থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্যই বনের সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

advertisement
advertisement

জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ?

জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ?

জাতীয় ডেস্ক: দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় নামজারি প্রক্রিয়া এখনো বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন সাধারণ নাগরিক জমি কেনার পর দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই আইনগতভাবে মালিকানা লাভ করেন। তবে সরকারি রেকর্ডপত্রে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে তাকে আলাদাভাবে নামজারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, নামজারির জন্য আবেদন করার পর সেই নথি চলে যায় সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার বা ভূমি কার্যালয়ে। সেখান থেকে আবেদনটি মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এই স্তরগুলো পার হতে বেশ কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়, যা সেবাগ্রহীতাদের জন্য নানা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডিজিটাল যুগের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আসার পরও ভূমি খাতের অনেক প্রক্রিয়ায় পুরনো পদ্ধতি বজায় থাকায় জনদুর্ভোগ পুরোপুরি কমছে না। ভূমি মালিকদের রেকর্ড হালনাগাদ করার এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার তাগিদ দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করার বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে পুরো নামজারি প্রক্রিয়াটি আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন মানুষের সময় বাঁচবে, অন্যদিকে অহেতুক ভোগান্তি ও দুর্নীতিও অনেকাংশে কমে আসবে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা এক অভাবনীয় রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করেছেন। নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ায় লুলার সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চমকপ্রদ জয় তুলে নেন তিনি। তার এই বিজয় আগের সব জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে রাজনীতিতে তার নাটকীয় পুনরুত্থান ঘটিয়েছে।

লুলার এই ঐতিহাসিক জয় লাতিন আমেরিকা জুড়ে ডানপন্থিদের ধারাবাহিক নির্বাচনি জয়ের ধারাকে জোরালোভাবে প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপমূলক এজেন্ডার ওপরও বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে লুলার সরকারের আমলে দেশটির অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এবং বেকারত্বের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এছাড়া আমাজন অঞ্চলে বন উজাড়ের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটি জাতিসংঘের ক্ষুধা মানচিত্র থেকেও নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়।

নির্বাচনের প্রচারণায় ভোটারদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল। লাখ লাখ ব্রাজিলীয় চড়া সুদের ঋণ ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সমাজে একধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এর জবাবে লুলা ঋণ মওকুফ, সামাজিক সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি এবং কাজের সময় কমানোর মতো সাহসী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ ফ্লাভিও বলসোনারো সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।

এই নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে আন্তর্জাতিক প্রভাবের বিষয়টিও বেশ আলোচনায় ছিল। বিদেশি শক্তির নানা ধরনের প্রকাশ্য সমর্থন ও হস্তক্ষেপের মুখেও ব্রাজিলের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। লুলার এই পুনর্নির্বাচন লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে ডানপন্থি শক্তির অগ্রযাত্রাকে স্তিমিত করে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এই ফলাফল ব্রাজিলের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব

মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সমাজে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিতর্ক দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। কেউ কেউ মনে করেন মানুষ প্রকৃতিগতভাবে মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, আবার অনেকের মতে নিরামিষ খাবারই মানব শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পুষ্টিবিদ ও গবেষকরা এই বিষয়টির গভীরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছেন। আমাদের দাঁতের গঠন, পরিপাকতন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁড়ার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, শারীরবৃত্তীয় গঠনের দিক থেকে মানুষ সর্বভুক বা অম্নিভোরস প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ আমাদের শরীর উদ্ভিদ এবং প্রাণী—উভয় উৎস থেকেই পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে সক্ষম। মানুষের চোয়াল এবং দাঁতের গঠনে তীক্ষ্ণ মাংস কাটার দাঁতের পাশাপাশি শস্য বা শাকসবজি চিবানোর মতো চ্যাপ্টা দাঁতও রয়েছে। এছাড়া আমাদের পরিপাকতন্ত্র এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যা আমিষ এবং নিরামিষ উভয় ধরনের খাবারই সহজে হজম করতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। মাংস বা উদ্ভিজ্জ খাবার যাই খাওয়া হোক না কেন, শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার সরবরাহ হচ্ছে কি না সেটাই মূল বিষয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার ফলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে সুষম ও পরিকল্পিত নিরামিষ ডায়েট অনুসরণ করেও শরীরের সমস্ত পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে কোনো একটি বিশেষ খাদ্যপদ্ধতিকেই একমাত্র সঠিক বলে দাবি করা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা, বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সবল থাকা সম্ভব।