খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সৌদি শ্রমবাজারে সংকট ও প্রবাসীদের বিপদ: সুরক্ষায় রাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সৌদি শ্রমবাজারে সংকট ও প্রবাসীদের বিপদ: সুরক্ষায় রাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন

সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী কর্মীরা এসেছেন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় যেতে পারছেন না তাঁরা

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে মন্দা, নিরাপত্তাজনিত হুমকি কিংবা বিমানবন্দরগুলোতে উদ্ভূত অচলাবস্থা, ফ্লাইট বাতিল ও ভিসা জটিলতায় আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের দুরবস্থা এক গভীর প্রশ্ন সামনে এনেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সচল রাখা এই মেহনতি মানুষদের চরম সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রের সুরক্ষামূলক প্রস্তুতি ঠিক কতটা দৃশ্যমান, তা এখন ভাবার বিষয়। প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের হিসাবে রাষ্ট্রীয় আগ্রহ যতটা প্রবল, তাঁদের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় সেই মাত্রার দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন দেখা যায় না। এটি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার, জাতীয় দূরদর্শিতা ও নাগরিক মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রবাসীদের ‘অর্থনীতির যোদ্ধা’ ও তাঁদের উপার্জনকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করার পরও বিপর্যয়ে তাঁদের রক্ষায় জোরালো পরিকল্পনা না থাকা সার্বিক উন্নয়ন দর্শনের বড় এক দুর্বলতা।

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ শ্রমবাজার সৌদি আরবে নির্মাণ, পরিবহন, পরিচ্ছন্নতা ও গৃহস্থালির মতো নানা খাতে বহু কর্মী নিয়োজিত। সেখানে কাজের সুযোগ সংকুচিত হলে বা স্থানীয় নিয়োগবিধি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কর্মী পরিবারগুলোর পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও চাপে পড়ে। অতিসম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলো হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ধোঁয়া ওঠার ঘটনা আঞ্চলিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তবুও সীমিত দক্ষতা এবং হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের ওপর অতিনির্ভরতার কারণে অভিবাসন খাতটি বরাবরই চরম ঝুঁকির মুখে থেকে যাচ্ছে। কয়েক মাসের জন্য সৌদি আরবে কর্মী নেওয়া কমলে ঠিক কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কত পরিবার ঋণের দায় শোধে ব্যর্থ হবে কিংবা দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের বিকল্প আয়ের উপায় কী—এমন আগাম হিসাব ও পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে কেবল হঠাৎ আসা দুর্যোগ বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

নিরাপত্তা সংকট বা সংঘাতের জেরে বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত, ছুটিতে থাকা ও সৌদি আরবে আটকে থাকা কর্মীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন। টিকিট নষ্ট হওয়া, চাকরিতে যোগদানের সময়সীমা পেরোনো, ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ও বাড়তি খরচের মতো সমস্যা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কর্মীরা দালালের ফাঁদে না পড়েন। আটকে পড়া কর্মী, দেশে আটকে থাকা শ্রমিক ও নতুন যাত্রীদের বিস্তারিত অবস্থান, ভিসা, চুক্তি, বকেয়া ও ঋণের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরি করা জরুরি। দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং বিমান সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার বাস্তব সমাধানের সংখ্যা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

জরুরি সংকট মোকাবিলায় একটি স্থায়ী সুরক্ষা তহবিল ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন অত্যাবশ্যক, যেখানে মহামারি বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে তহবিল জোগান ও সংস্থার দায়িত্ব পূর্বনির্ধারিত থাকবে। বহুভাষিক হটলাইন, দ্রুত নিবন্ধন, নিরাপদ আবাসন, খাদ্য, চিকিৎসা এবং আইনি সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভিসা বা চাকরির মেয়াদ বাড়ানো এবং বিনা খরচে টিকিট পুনঃনির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বিদেশে যেতে ঋণগ্রস্ত কর্মীদের কিস্তি পরিশোধে ছাড় ও আর্থিক সহায়তায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা আবশ্যক। একই সঙ্গে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি অভিযোগের জন্য ট্র্যাকিং নম্বর চালু করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সভা-বিবৃতির সংখ্যার চেয়ে কতজনের চাকরি রক্ষা পেল বা বকেয়া আদায় হলো, সেটাই আসল মাপকাঠি হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের (সিএমএস) সমন্বয়ক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিম রেজা।

advertisement
advertisement

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও এক আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। সকালের দিকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা ভোট দেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপনির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন এবং দিনশেষে তাদের পক্ষেই বিজয় আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে এই উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোটদান শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটির অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে নির্ধারিত ছবি অনুপস্থিত রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থীর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান সফরকালে দেশটির অন্যতম শীর্ষ গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি নাগোয়া অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ সরকারের সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানি এই মোটর কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। কারখানার আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সরাসরি দেখার জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কারখানার ভেতরে বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গাড়ি সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। কীভাবে নিখুঁতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়, তা তাঁকে কারিগরি দল বিস্তারিতভাবে বোঝায়। জাপানের উন্নত শিল্পোৎপাদন কৌশল এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনের কার্যক্রম দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়েও সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

এই পরিদর্শনের সময় টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাহিকো মোয়েদা ছাড়াও টয়োটা সুশো করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোবিলিটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী শিগেরু হারাদা এবং চিফ অপারেটিং অফিসার শিনিচিরো ওতসুকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখান। জাপানি এই শীর্ষ নির্বাহীরা বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ি উৎপাদনের নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কার্যাঞ্চল সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং প্রেস উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজের ভোтаধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সকালে নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং এরপর নির্ধারিত সময়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একজন ভোটার হিসেবে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম কেন্দ্রেই ইতিবাচক পরিবেশ পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অন্যান্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান যে সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বিধায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দিনভর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন এবং কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হলে তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনেরই দায়িত্ব। আবহাওয়ায় কিছুটা বৃষ্টির আভাস থাকলেও ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এলাকার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মোট ৯৮৯টি বুথে সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজিবি সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া নির্বাচনী বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা তাৎক্ষণিকভাবে দমনে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি বিশেষ অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা মাঠে তৎপর ছিলেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করে গেছে।