খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও এক আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। সকালের দিকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা ভোট দেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপনির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন এবং দিনশেষে তাদের পক্ষেই বিজয় আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে এই উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোটদান শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটির অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে নির্ধারিত ছবি অনুপস্থিত রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থীর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

advertisement
advertisement

আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার

আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার

অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের কারখানা সম্প্রতি পরিদর্শন করেছে জার্মানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার এবং স্টেট সেক্রেটারি বারবেল কোফলারের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি কারখানা চত্বরে এসে পৌঁছায়। শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কর্মপরিবেশ সরাসরি দেখার উদ্দেশ্যে তাদের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানায় পৌঁছানোর পর বিদেশি অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মোমিন। এ সময় স্বাগতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অতিথিদের কাছে কারখানার সার্বিক কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিক এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে বারবেল কোফলারের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ। তাছাড়া জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও প্রতিনিধিদলে অংশ নেন। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের এই উপস্থিতির ফলে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সফরের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক পরিদর্শন বাংলাদেশের ভারী শিল্প খাতের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে বহির্বিশ্বে আরও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে সম্প্রতি উদ্ভূত যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাপানের টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার প্রাক্কালে উড়োজাহাজটিতে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে ছেড়ে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের যেকোনো কারিগরি ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই চার সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গঠিত এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বিমানের চিফ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং। এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন এবং ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি, আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন একজন আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক। এই দলটি উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির সঠিক প্রকৃতি নির্ণয়, বিমানটির উড্ডয়ন উপযোগিতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং এর ফলে সৃষ্ট যাত্রীদের ভোগান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ক্ষতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে।

এর আগে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিজি-৩৭৭ নম্বর ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা থাকলেও স্পয়লারে ত্রুটির সংকেত পাওয়ায় পাইলট তা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে বিমানটিকে দ্রুত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি জাপানি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন। প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফ্লাইটটি নিরাপদে ঢাকার পথে রওনা হয়।

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

রাজনীতি ডেস্ক: যে দেশের সাধারণ মানুষ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান শুনতে ভালোবাসে এবং কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার ধানসিঁড়ি নদীর রূপকল্প খুঁজে বেড়ায়, সেই একই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কেন এত নির্মমতা ও কঠোরতার প্রকাশ ঘটে, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের শিল্পিত ও সংস্কৃতিমনস্ক মানসিকতার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষার এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। এই অমিলের উত্তর খুঁজতে হলে মূলত দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমা এবং ক্ষমতার পালাবদলের পেছনের নানা ঘটনার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠকে পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা প্রায়শই একটি বক্সিং রিংয়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন, যেখানে নীতিগত বিতর্ক বা আদর্শের লড়াইয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার মানসিকতাই বেশি প্রবল থাকে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বক্তৃতায় প্রতিনিয়ত যে ধরনের কর্কশ ভাষা, কটূক্তি এবং চরম হুংকার শোনা যায়, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এই আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক আচরণ কেবল নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা অতি দ্রুত তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের রাজনীতি কখনোই সম্পূর্ণ মসৃণ ছিল না বরং বারবার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সামরিক শাসন এবং সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে এক ধরনের সংঘাতময় পথ বেছে নিয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজনীতির স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে শিকড় গেড়েছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে শত্রু হিসেবে গণ্য করার এই প্রবণতাই রাজনীতির ময়দানকে প্রতিনিয়ত উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ করে রাখছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাজনীতির ভাষাকে মার্জিত ও জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বারবার ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। সাধারণ মানুষ বরাবরই একটি শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ প্রত্যাশা করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের এই মারমুখী অবস্থান তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির পরিবেশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।