খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ময়মনসিংহ শহর। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় ছবিটি তুলেছেন উবায়দুল হক।

‘হাওর, জঙ্গল, মহিষের শিং—এই তিনে মৈমিনসিং’—ব্রিটিশ আমলের সুবিশাল ময়মনসিংহের প্রাকৃতিক রূপ নিয়ে প্রচলিত এই লোকপ্রবাদ আজ আর আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়। কালের বিবর্তনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এই ঐতিহাসিক জনপদটি এখন আর কেবল জেলা শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তীব্র যানজট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাশয় ভরাট এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ শহরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদূরপ্রসারী ভাবনার দাবি জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রণীত ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’ একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা। আইনটির লক্ষ্য ময়মনসিংহের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক, দুর্যোগসহনশীল, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনবান্ধব সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা। এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বা নাগরিক সংবাদ পাঠাতে পাঠকদের ns@prothomalo.com ঠিকানায় যোগাযোগ করার সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩১৫ জন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে মানুষের প্রতিনিয়ত আগমনের ফলে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রূপ পাওয়া ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) দায়িত্ব কেবল ভবনের নকশা ছাড় করাতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মউকের চেয়ারম্যান ভবনের নকশা অনুমোদনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ তদারকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সংস্থাটির জন্য নিজস্ব কার্যালয় ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি, কারণ বর্তমানে জেলা গণপূর্ত ভবনের একটিমাত্র কক্ষ থেকে এর প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শহরের অন্যতম প্রধান ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর প্রধান সড়কগুলোয় হাঁটুপানি জমে যায় এবং তা নিষ্কাশন হতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। এর আগে ২০২৫ সালে নগরীর বলাশপুর এলাকায় প্রায় ২ হাজার পরিবারের মৌসুমি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির চিত্র সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, ড্রেনের অভাব এবং বর্জ্য ফেলার কারণে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেবল বিচ্ছিন্ন ড্রেন তৈরি না করে জলাধার সংরক্ষণ, পরিকল্পিত খাল এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুর বা রিটেনশন পন্ডসহ সামগ্রিক জলপ্রবাহভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণই এর টেকসই সমাধান হতে পারে।

পুরোনো শহরের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ব্রহ্মপুত্র নদের অপর প্রান্তে আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, বিনোদন পার্ক, সাইকেল লেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অবকাঠামোসমৃদ্ধ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক উপশহর গড়ে তোলা যেতে পারে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্ট্রাকচার ও অ্যাকশন প্ল্যান এবং ২০১১-২০৩১ সালের স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের গবেষণা পর্যালোচনার পাশাপাশি জিআইএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নির্ধারণ করা দরকার। একই সঙ্গে পুরো নগরীকে এককেন্দ্রিক না রেখে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি ‘পলিসেন্ট্রিক’ বা বহুকেন্দ্রিক নগর মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব, যা শহরের বর্তমান মারাত্মক অটোরিকশার যানজট নিয়ন্ত্রণে আনবে।

সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শহর ও উপশহরের মধ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক (আইপিটিএন) গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার মধ্যে নির্দিষ্ট বাস রুট, বিআরটি করিডর, রেল ও নৌপথের আন্তসংযোগ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং হাব থাকবে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় নতুন ল্যান্ড ইউজ জোনিং ম্যাপের মাধ্যমে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে পরিবেশ ও প্লাবনভূমি রক্ষা করে একটি সমন্বিত ‘রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ প্রণয়নের মাধ্যমে ‘রিভার সিটি’র ধারণা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আইনে উল্লিখিত দিকনির্দেশনা মেনে নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী ও বস্তিবাসীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘মিক্সড ইনকাম হাউজিং’ বা মিশ্র আয়ের আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।

আধুনিক ময়মনসিংহকে সত্যিকারের স্মার্ট নগরী করতে একটি সমন্বিত আরবান ডেটা সেন্টার (ইউডিসি) থাকা প্রয়োজন, যা জিআইএসভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক ও সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘আরবান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ফোরাম’ গঠন করা যেতে পারে। বিচ্ছিন্ন প্রকল্পনির্ভরতা পরিহার করে ২০২৬-২০৫০ সালের জন্য একটি ২৫ বছর মেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এর মধ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে তথ্য সংগ্রহ, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান ও উপশহরের স্থান নির্ধারণ; ২০৩০-২০৪০ মেয়াদে মূল অবকাঠামো, আবাসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন; এবং ২০৪০-২০৫০ মেয়াদে ময়মনসিংহকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বহুকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিশ্চিত করতে হবে।

advertisement
advertisement

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও এক আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। সকালের দিকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা ভোট দেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপনির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন এবং দিনশেষে তাদের পক্ষেই বিজয় আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে এই উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোটদান শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটির অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে নির্ধারিত ছবি অনুপস্থিত রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থীর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান সফরকালে দেশটির অন্যতম শীর্ষ গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি নাগোয়া অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ সরকারের সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানি এই মোটর কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। কারখানার আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সরাসরি দেখার জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কারখানার ভেতরে বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গাড়ি সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। কীভাবে নিখুঁতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়, তা তাঁকে কারিগরি দল বিস্তারিতভাবে বোঝায়। জাপানের উন্নত শিল্পোৎপাদন কৌশল এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনের কার্যক্রম দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়েও সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

এই পরিদর্শনের সময় টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাহিকো মোয়েদা ছাড়াও টয়োটা সুশো করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোবিলিটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী শিগেরু হারাদা এবং চিফ অপারেটিং অফিসার শিনিচিরো ওতসুকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখান। জাপানি এই শীর্ষ নির্বাহীরা বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ি উৎপাদনের নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কার্যাঞ্চল সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং প্রেস উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজের ভোтаধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সকালে নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং এরপর নির্ধারিত সময়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একজন ভোটার হিসেবে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম কেন্দ্রেই ইতিবাচক পরিবেশ পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অন্যান্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান যে সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বিধায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দিনভর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন এবং কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হলে তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনেরই দায়িত্ব। আবহাওয়ায় কিছুটা বৃষ্টির আভাস থাকলেও ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এলাকার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মোট ৯৮৯টি বুথে সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজিবি সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া নির্বাচনী বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা তাৎক্ষণিকভাবে দমনে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি বিশেষ অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা মাঠে তৎপর ছিলেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করে গেছে।