খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

অপরাধ ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে বা বিডিএস কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি টাকা না দিলে জমির রেকর্ড না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে একজনের জমি অন্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি জরিপের কাজ সম্পূর্ণ না করেই সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়াররা হঠাৎ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চন্দহর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজা এবং সিংগাইর পৌরসভার বিনোদপুর বড়খণ্ড মৌজায় এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। জমির সঠিক পরিমাপ ও মালিকানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের অনিয়মের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জমি নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও এবং বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের পরেও সার্ভেয়ারদের দাবি করা টাকা দিতে না পারায় তাদের নাম রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বার্তা গ্রামের মোড়ল বাড়ির মো. সিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের আড়াই বিঘা জমি রেকর্ডভুক্ত করার জন্য দায়িত্বরত সার্ভেয়ার প্রতি শতাংশের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। জমিসমূহ নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর জমি রেকর্ডের বাইরে রাখা হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর নিজের ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড করতে নয় হাজার টাকা দিতে বাধ্য হলেও, একই দাগে তাঁর ভাবির সমপরিমাণ জমি রেকর্ড করার জন্য দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। চাহিদামতো অর্থ প্রদান করতে না পারায় সেই জমির রেকর্ড সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জরিপের কাজে অনিয়মের ফলে সৃষ্ট ভুলের কারণে অনেক জমির মালিক এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানা গেছে। ফতেহপুর গ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি জানান, বৈধ দলিল ও নিজেদের দখল থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রায় ছয় শতাংশ জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি জানান, এই ভুল সংশোধনের জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সংশ্লিষ্ট কাউকে পাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের নির্ধারিত কাজ অসমাপ্ত রেখেই সার্ভেয়াররা এলাকা ত্যাগ করেছেন। পলি নামের অপর এক জমির মালিক জানান, এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসম্পূর্ণ জরিপ কাজ এবং সার্ভেয়ারদের হঠাৎ প্রস্থান এলাকার জমির মালিকদের গভীর আইনি ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার আলাউদ্দিন দাবি করেছেন যে তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে এবং কিছুদিন পর আবার জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন যে তাঁর দপ্তরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এখনো জমা পড়েনি। সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুন্নাহার পপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জমি জরিপ বা রেকর্ড করার কার্যক্রমে অর্থ লেনদেনের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া জরিপের সময় অনিচ্ছাকৃত বা অসদুপায়ে কোনো ভুল হয়ে কারও জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে থাকলে প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসে ভুক্তভোগী মানুষেরা কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

advertisement
advertisement

এক কলেজে সবাই জিপিএ-৫, আরেক কলেজে চারজনের তিনজনই ফেল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এক কলেজে সবাই জিপিএ-৫, আরেক কলেজে চারজনের তিনজনই ফেল

এক কলেজে সবাই জিপিএ-৫, আরেক কলেজে চারজনের তিনজনই ফেল

শিক্ষা ডেস্ক: একই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। একই প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে, আবার কোথাও কোথাও অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। সাম্প্রতিক প্রকাশিত এই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষামহলজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছোট দারোগারহাট তাহের-মনজুর কলেজে পাসের হার অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে, যেখানে প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। এছাড়া বিজয় স্মরণী কলেজ, লতিফা সিদ্দীকী ডিগ্রি কলেজ এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজেও পাসের হার সন্তোষজনক নয়। এমনকি সীতাকুণ্ড কামিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার ফলাফলও জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে। বারবকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সকল পরীক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে এবং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজ এবং কুমিরা রেসিডেনশিয়াল গার্লস স্কুল অ্যান্ড হাসপাতালেও তুলনামূলক ভালো ফলাফল বজায় রয়েছে।

উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন বৈষম্যমূলক ফলাফলের জন্য শিক্ষক সংকট, ক্লাসে নিয়মিত পাঠদানের অনুপস্থিতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর না থাকাকে দায়ী করেছেন অভিভাবকরা। যেসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ত্রিশ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, তাদের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

জাতীয় ডেস্ক: কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগে পুলিশের সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে যোগ না দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চাকরি হারায়েছেন এমন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অবহেলা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অন্যান্য নিয়মাবলি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের মুদ্রা বাজারে হঠাৎ করেই মার্কিন ডলারের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। মূলত বিভিন্ন ছুটির দিন এবং সার্বিক পরিস্থিতির কারণে নগদ ডলারের পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও এর দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই দাম বাড়ার ফলে শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক আমদানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর বিনিময় মূল্যও দেশীয় মুদ্রার বিপরীতে কিছুটা চড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে নগদ ডলার বিক্রি করছে তুলনামূলক বেশি দামে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পর্যালোচনা করলে এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে ডলার কেনার চেয়ে বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক বেশি দর রাখছে। ব্যাংকভেদে নগদ ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা থেকে শুরু করে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। একই সঙ্গে আমদানির কাজে ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলোর নিজেদের মধ্যে লেনদেন হওয়া ডলারের দামও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোর আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর প্রতি ডলারে প্রায় ১২৪ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ব্যাংকিং খাতের তুলনায় খুচরা ও খোলাবাজারে ডলারের দাম আরও বেশ কিছুটা চড়া রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম উঠেছে। মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ডলার ক্রয়ের সময় কিছুটা কম দাম দিলেও বিক্রির ক্ষেত্রে চড়া মূল্য নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে বিদেশ থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে।

যাত্রী আসা-যাওয়া কমে যাওয়ার ফলে খোলাবাজারে নগদ ডলারের একধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কিছুদিন আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতেও ঠিক একই সময়ের ব্যবধানে ডলারের দামে সমপরিমাণ উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে ডলারের এই অব্যাহত দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিদেশগামী যাত্রী এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।