খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক খাতের দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবে সৃষ্ট সংকটের কারণে অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক খাত থেকে লাগামহীনভাবে অর্থ বের করে নেওয়ার কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হলেও সেগুলোর পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলেও ব্যাংকিং খাতের ক্ষত সারাতে আরও বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন। শুধু ব্যাংকিং সংস্কার করলেই পুরো অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না, বরং এর জন্য রাজস্ব খাতের দুর্বলতা কাটানো অত্যন্ত জরুরি। কর ও জিডিপির অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার দশা হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং গ্যাস অনুসন্ধানসহ প্রধান প্রধান খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই শীর্ষ ব্যাংকার। তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা দোষীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর কারখানা ও ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোও চাপে রয়েছে। তবে ভালো ব্যাংকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণপত্র খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ৩৭ বছরের ব্যাংকিং জীবনে তিনি এবারই প্রথম দেশের অর্থনীতিতে প্রকৃত মন্দা পরিস্থিতি দেখছেন বলে জানান। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত সমাজের একটি অংশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের একত্রীকরণ অনিবার্য হয়ে উঠবে এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সুশাসন ও শক্ত নীতিমালার বিকল্প নেই।

advertisement
advertisement

বেতন বাড়ানোর দাবিতে মিরপুরে শ্রমিকদের ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বেতন বাড়ানোর দাবিতে মিরপুরে শ্রমিকদের ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে মিরপুরে শ্রমিকদের ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

জাতীয় ডেস্ক: ন্যূনতম মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এদিন সকালে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শ্রমিকরা অবস্থান নিলে প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একই সঙ্গে গাজীপুরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রমিকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে দশটার দিকে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে মিরপুর দশ নম্বর চত্বর, পল্লবী এবং মিরপুর এগারো নম্বর এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। এ সময় কারখানা মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, বিদেশি ক্রেতা, বিজিএমইএ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফিরতে রাজি হননি।

আন্দোলনরত সাব্বির নামের এক পোশাক শ্রমিক জানান, ওভারটাইমসহ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করেও মাত্র আষাটো হাজার টাকা বেতন পান তিনি। বেতনের সিংহভাগ অংশই বাড়িভাড়া বাবদ চলে যাওয়ায় বর্তমান বাজারে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই তাদের দাবি, হয় অবিলম্বে ন্যূনতম বেতন বাড়াতে হবে, নতুবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। মিরপুর অঞ্চলের পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

এদিকে রাজধানীর পাশাপাশি গাজীপুরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। মহাসড়কের প্রায় সাত কিলোমিটারজুড়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী ও চালক চরম ভোগান্তিতে পড়েন। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান আয়ে সংসার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না, তার ওপর আগের মতো অতিরিক্ত কাজের সুযোগও কমে গেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপে এবং দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এক কলেজে সবাই জিপিএ-৫, আরেক কলেজে চারজনের তিনজনই ফেল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এক কলেজে সবাই জিপিএ-৫, আরেক কলেজে চারজনের তিনজনই ফেল

এক কলেজে সবাই জিপিএ-৫, আরেক কলেজে চারজনের তিনজনই ফেল

শিক্ষা ডেস্ক: একই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। একই প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে, আবার কোথাও কোথাও অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। সাম্প্রতিক প্রকাশিত এই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষামহলজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছোট দারোগারহাট তাহের-মনজুর কলেজে পাসের হার অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে, যেখানে প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। এছাড়া বিজয় স্মরণী কলেজ, লতিফা সিদ্দীকী ডিগ্রি কলেজ এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজেও পাসের হার সন্তোষজনক নয়। এমনকি সীতাকুণ্ড কামিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার ফলাফলও জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে। বারবকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সকল পরীক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে এবং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজ এবং কুমিরা রেসিডেনশিয়াল গার্লস স্কুল অ্যান্ড হাসপাতালেও তুলনামূলক ভালো ফলাফল বজায় রয়েছে।

উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন বৈষম্যমূলক ফলাফলের জন্য শিক্ষক সংকট, ক্লাসে নিয়মিত পাঠদানের অনুপস্থিতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর না থাকাকে দায়ী করেছেন অভিভাবকরা। যেসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ত্রিশ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, তাদের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

জাতীয় ডেস্ক: কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগে পুলিশের সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে যোগ না দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চাকরি হারায়েছেন এমন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অবহেলা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অন্যান্য নিয়মাবলি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।