খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন

নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন

জাতীয় ডেস্ক: নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার পথে এখনো সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা এবং entrenched পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। দেশের তরুণ সমাজ ও কিশোরীদের সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে এই সামাজিক প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সমাজের এই গভীর সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেন দেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব জহির উদ্দিন স্বপন।

শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এই বিশেষ কার্নিভ্যালের আয়োজন করে। শিকড়ের শক্তিতে, এগিয়ে যাক প্রতিটি কিশোরী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কিশোরীদের নিজস্ব শক্তির ওপর ভর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিলেই নারীর পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, এর জন্য প্রয়োজন একটি অনুকূল পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ। সমাজ থেকে কুসংস্কার এবং লিঙ্গবৈষম্য দূর করার মাধ্যমে কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কিশোরীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয় এই আয়োজনে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে কিশোরীদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ প্রদান করা গেলে তারা দেশের সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের মাঝে নানা ধরনের উৎসাহমূলক উপহার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

advertisement
advertisement

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ

অর্থনীতি ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে সব ধরনের পণ্য সরবরাহ স্থগিত রেখেছে ভারতীয় পক্ষ। ভারতীয় ট্রাকচালক ও তাঁদের সহকারীদের রাতের বেলা বন্দরের ভেতরে অবস্থানের নিয়ম নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার আমদানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন জানান, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ট্রাকগুলো বন্দরে আসার পর খালাসের অপেক্ষায় না থেকে চালকেরা রাতে ভারতে চলে যেতেন। এরপর পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বহন করার অভিযোগ উঠত। এর আগে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন চালক ও সহায়ক আটকও হয়েছিলেন।

এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ রোধ করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বন্দর পরিচালনা পর্ষদ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, পণ্য পুরোপুরি খালাস না হওয়া পর্যন্ত চালক ও তাঁদের সহকারীদের বন্দরের ভেতরেই রাতে অবস্থান করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে ভারতীয় পক্ষ ক্ষুব্ধ হয় এবং কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ভারতীয় চালকেরা সাধারণত পানামা বন্দরে ট্রাক রেখে অন্য একটি ট্রাকে চড়ে ভারতে ফিরে যেতেন। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এই নিয়মের তীব্র আপত্তি জানায় এবং নতুন নির্দেশনা জারি করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশের পর খালাস শেষ করে ট্রাকসহ ভারতে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে বন্দরের ভেতরেই পণ্য খালাস সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এই নির্দেশনার পরই ভারতীয় পক্ষ পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

ধর্ম ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার সময় মানুষের ভিড়ে কিংবা অসাবধানতাবশত অনেক সময় একজনের পা অন্যজনের গায়ে লেগে যায়। আমাদের সমাজে এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পা ছুঁয়ে সালাম করার বা বিশেষ শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শনের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে। বহু মানুষ এটিকে নিছক সামাজিক শিষ্টাচার বা ভদ্রতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলাম ধর্মে এই ধরনের আচরণের বাস্তবিক কোনো ধর্মীয় ভিত্তি বা সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে কি না।

ইসলাম ধর্মে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, মার্জিত আচরণ এবং একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুলবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো গায়ে আঘাত লাগলে কিংবা সামান্য ভুল হলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা দুঃখ প্রকাশ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় গুণ। তবে পা লাগার মতো সাধারণ ঘটনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক ভঙ্গি বা সালাম দেওয়ার প্রথা সরাসরি শরিয়তের কোনো বিধান বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে কোথাও নির্ধারিত নেই।

ইসলামি গবেষক ও বিশিষ্ট আলেমদের মতে, এই প্রথাটি মূলত বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের সামাজিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক ভক্তি-শ্রদ্ধার একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এর সঙ্গে খাঁটি ধর্মীয় অনুশাসনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক বা বাধ্যবাধকতা নেই। মানুষ নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এবং ভুলত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে এই ধরনের সামাজিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে ধর্মীয় বিধান মনে করা বা এর ব্যত্যয় ঘটলে পাপ হবে বলে বিশ্বাস করার কোনো অবকাশ নেই।

পরিশেষে বলা যায়, সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এই ধরনের আচার-ব্যবহার মানুষের সামাজিক জীবনকে আরও সুন্দর ও মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলতে পারে। ইসলাম কখনো মানুষের সুস্থ সামাজিক রীতিনীতিকে বাধা দেয় না, যদি না তা শরিয়তের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। তাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো গায়ে পা লেগে গেলে পারস্পরিক ক্ষমা ও শালীনতাই ইসলামি জীবনবোধের মূল কথা, কোনো নির্দিষ্ট ভঙ্গির বাধ্যবাধকতা সেখানে নেই।

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এই alarming তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যখাতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার আর্থিক মূল্য প্রায় দুই হাজার ৭০ কোটি ডলার বা দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির চার দশমিক ছয় শতাংশের সমান। মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করেই মূলত এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তবে জলবায়ুজনিত এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মূলত বিগত দশকের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অসহনীয় তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর বিস্তার লাভের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

গবেষণার হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে দেশে প্রায় দুই হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। কেবল এই নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার অর্থনৈতিক মূল্যই প্রায় এক হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের সমান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের কৃষি খাত, যেখানে মোট হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় চৌষট্টি শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কেবল কৃষিশ্রমিকরাই নন, বরং নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা পেশাজীবীরাও প্রতিনিয়ত নিজেদের কর্মক্ষমতা ও আয় হারাচ্ছেন। তবে এই হিসাবের মধ্যে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রাণঘাতী নয় এমন অন্যান্য অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত করা হয়নি। ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক ক্ষতির বোঝা আরও অনেক বেশি ভারী হবে বলে গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মডেলভিত্তিক বিভিন্ন হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেবল উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জটিলতার কারণে এক বছরে দেশে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়া, সামগ্রিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকিগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের পকেট থেকেই ব্যয়ের সিংহভাগ বহন করছে, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বড় চাপ তৈরি করছে।

গবেষণায় ডেঙ্গু সংক্রমণের সঙ্গে তাপমাত্রার একটি স্পষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে পরবর্তীতে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির হার বহুগুণ বেড়ে যায়। কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরেই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার সঙ্গে বহির্বিভাগের চিকিৎসার খরচ যুক্ত নেই। তাছাড়া গত কয়েক বছরে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বায়ুদূষণের কারণে বহু মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁkinর শিকার হয়েছে। অথচ এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত বাজেট যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ুসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের খুব সামান্য অংশই সঠিকভাবে ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যখাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন যে, বর্তমান জনস্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক স্বাস্থ্যগত প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সুপারিশমালা পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই একটি কার্যকর জাতীয় তাপ ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। মহিলা, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।