খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি

কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি

জাতীয় ডেস্ক: প্রথম আলোর সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জ্বালানি বরাদ্দের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট করপোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য প্রতি মাসে বড় অঙ্কের জ্বালানি তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় সংকোচন এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এতদিন গাড়ি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে চারশ থেকে শুরু করে প্রায় ছয়শ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল সুবিধা ভোগ করছিলেন। সরকারি এই সংস্থাটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ হিসাব এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করেই এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচের চিত্রটি উদ্ঘাটিত হয়। শহরের ভেতরে দাপ্তরিক কাজের পরিধির তুলনায় এই জ্বালানি বরাদ্দ অত্যন্ত বেশি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনসাধারণের করের টাকায় পরিচালিত সংস্থার এমন বিলাসবহুল জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি খাতের যেকোনো ধরনের বাড়তি ব্যয় নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপচয় রোধ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নীতিনির্ধারক মহল। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত মাসিক জ্বালানি তেল বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে করপোরেশনের মাসিক পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং সরকারি সম্পদের আরও সুষম ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

advertisement
advertisement

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এই alarming তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যখাতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার আর্থিক মূল্য প্রায় দুই হাজার ৭০ কোটি ডলার বা দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির চার দশমিক ছয় শতাংশের সমান। মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করেই মূলত এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তবে জলবায়ুজনিত এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মূলত বিগত দশকের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অসহনীয় তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর বিস্তার লাভের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

গবেষণার হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে দেশে প্রায় দুই হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। কেবল এই নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার অর্থনৈতিক মূল্যই প্রায় এক হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের সমান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের কৃষি খাত, যেখানে মোট হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় চৌষট্টি শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কেবল কৃষিশ্রমিকরাই নন, বরং নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা পেশাজীবীরাও প্রতিনিয়ত নিজেদের কর্মক্ষমতা ও আয় হারাচ্ছেন। তবে এই হিসাবের মধ্যে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রাণঘাতী নয় এমন অন্যান্য অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত করা হয়নি। ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক ক্ষতির বোঝা আরও অনেক বেশি ভারী হবে বলে গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মডেলভিত্তিক বিভিন্ন হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেবল উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জটিলতার কারণে এক বছরে দেশে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়া, সামগ্রিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকিগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের পকেট থেকেই ব্যয়ের সিংহভাগ বহন করছে, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বড় চাপ তৈরি করছে।

গবেষণায় ডেঙ্গু সংক্রমণের সঙ্গে তাপমাত্রার একটি স্পষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে পরবর্তীতে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির হার বহুগুণ বেড়ে যায়। কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরেই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার সঙ্গে বহির্বিভাগের চিকিৎসার খরচ যুক্ত নেই। তাছাড়া গত কয়েক বছরে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বায়ুদূষণের কারণে বহু মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁkinর শিকার হয়েছে। অথচ এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত বাজেট যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ুসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের খুব সামান্য অংশই সঠিকভাবে ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যখাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন যে, বর্তমান জনস্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক স্বাস্থ্যগত প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সুপারিশমালা পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই একটি কার্যকর জাতীয় তাপ ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। মহিলা, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

শাহজালালে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৬৩৬ যাত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শাহজালালে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৬৩৬ যাত্রী

শাহজালালে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৬৩৬ যাত্রী

জাতীয় ডেস্ক: সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করায় আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে ঢাকা থেকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বিমান চলাচল খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

এর আগে সৌদি এয়ারলাইনস থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট বাতিলের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে গত বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রেকর্ডসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পাঠানো সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এক দিনেই মোট ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ছিল ৭৬টি এবং বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল ৭৭টি। হুট করে এতগুলো ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যেও চরম ব্যস্ততা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৩টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় ছিল ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট।

হঠাৎ করে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এই বিশাল সংখ্যক ফ্লাইটে মোট ২২ হাজার ৬৩৬ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন এবং তাদের অনেকে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে থাকা এসব যাত্রীকে কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সার্কুলার জারি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সার্কুলার জারি

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সার্কুলার জারি

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং এর কার্যক্রম আরও বেশি সুশৃঙ্খল ও সহজ করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়মকানুনগুলো এক ছাতার নিচে চলে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে।

নতুন এই সার্কুলার জারির মাধ্যমে ২০১৮ সালের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকার প্রথম খণ্ডে থাকা আগের সমস্ত নির্দেশনা এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে দেওয়া সার্কুলারগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশিকার দ্বিতীয় খণ্ডে উল্লেখ থাকা মাসিক প্রতিবেদন দাখিল সংক্রান্ত নিয়মগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রকাশিত নতুন সার্কুলারে মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণ, প্রতিবেদন দাখিল, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব পরিচালনা, ওপেন পজিশন সীমা এবং নস্ট্রো হিসাবের সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফরওয়ার্ড লেনদেন, সোয়াপ এবং আমদানি বাণিজ্যে পণ্যের মূল্যঝুঁকি হেজিংয়ের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই সার্কুলারে ভার্চুয়াল সম্পদ এবং ভার্চুয়াল মুদ্রার যেকোনো ধরনের বিনিময়, স্থানান্তর ও লেনদেনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নির্দেশনা জারির তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নিয়ম আসলে তা এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আশা করছেন এর ফলে ব্যাংকিং খাতে নিয়ম প্রতিপালন সহজতর হবে।