খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভাই, বিধানসভায় বিস্ফোরক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভাই, বিধানসভায় বিস্ফোরক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

অমৃতসরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। ২৮ জুন, ২০২৬

ফরাসি রাজধানী প্যারিস সফর সেরে ফেরার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা এবং ৫০ হাজার রুপি জরিমানা আদায়ের অভিযোগে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আম আদমি পার্টির (আপ) এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, তাঁকে অহেতুক হেনস্তা করার নেপথ্যে ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ভাই তথা দিল্লি শুল্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আইআরএস কর্মকর্তা মণীশ কুমার। বিষয়টিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেওয়ার কৌশল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাঞ্জাব বিধানসভায় ওই দিন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক বিধায়ক সিইসির পদত্যাগের দাবি তোলেন। তবে প্রস্তাবটি যখন গৃহীত হয়, তখন বিরোধী পক্ষ কংগ্রেস, শিরোমণি অকালি দল ও বিজেপির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন না। পাঞ্জাবে ক্ষমতায় থাকা আপ সরকারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বিজেপির নানা বিষয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আবহেই এ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

অভিযোগের বর্ণনা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মান জানান, দিল্লি বিমানবন্দরে শুল্ক বিভাগের কর্মীরা বারবার তাঁর সামগ্রী তল্লাশির কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়। তবে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুখে ওই আধিকারিকেরা আবার এসে জানান যে ওপর মহলের প্রচণ্ড চাপের কারণে একটি চালান কাটতেই হবে এবং এরপর ৫০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করা হয়। বিজেপির উদ্দেশে তোপ দেগে মান বলেন, এভাবেই তারা প্রতিশোধ নেয় এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই শুল্ক কর্মকর্তা মণীশ কুমার হলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ভাই।

মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অনিল সারিন মন্তব্য করেন, মনগড়া কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দায় এড়াতে পারেন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, শুল্ক বিভাগ ঠিক কী কারণে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে, সাহস থাকলে মুখ্যমন্ত্রী সেই রসিদ প্রকাশ্যে এনে দেখান। সারিন আরও মনে করিয়ে দেন, প্রটোকল অনুসারে মুখ্যমন্ত্রীদের দেহ বা লাগেজ তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া হলেও তাঁদের সঙ্গে থাকা সফরসঙ্গীরা এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন এবং তাঁদের মালামাল তল্লাশির বাইরে থাকে না।

সাধারণত ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীদের বিদেশযাত্রায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্রের (এনওসি) প্রয়োজন হয়। পূর্বে একাধিকবার বিদেশ সফরের সুযোগ না পাওয়া মানকে এবার ফ্রান্সে যাওয়ার অনুমতিও দিতে চায়নি কেন্দ্র। পরে মুখ্যমন্ত্রী পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আদালতের নির্দেশনায় ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’ খাদ্যমেলায় অংশ নেন; সে সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী গুরপ্রীত কৌর উপস্থিত ছিলেন।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৭ নভেম্বর লাহোরে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি বাবা বসির হুসেন নাজমি তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে ফ্রান্সে যেতেই যেখানে কেন্দ্র বাধা তৈরি করেছিল, সেখানে পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি কেন্দ্র কীভাবে দেবে—তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি প্রস্তাব রাখেন, কর্তারপুর করিডর খুলে দেওয়া হলে বিধানসভার সব পক্ষের সদস্যদের একসঙ্গে কর্তারপুর সাহেব যাওয়া উচিত। উল্লেখ্য, শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেব জীবনের শেষ ১৮ বছর যেখানে কাটিয়ে দেহত্যাগ করেছিলেন, সেই স্মৃতিবিজড়িত দরবার সাহেব গুরুদ্বারাটি পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় পাঞ্জাবের গুরদাসপুর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা পুণ্যার্থীদের জন্য ভিসামুক্ত একটি করিডর।

advertisement
advertisement

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও এক আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। সকালের দিকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা ভোট দেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপনির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন এবং দিনশেষে তাদের পক্ষেই বিজয় আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে এই উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোটদান শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটির অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে নির্ধারিত ছবি অনুপস্থিত রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থীর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান সফরকালে দেশটির অন্যতম শীর্ষ গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি নাগোয়া অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ সরকারের সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানি এই মোটর কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। কারখানার আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সরাসরি দেখার জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কারখানার ভেতরে বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গাড়ি সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। কীভাবে নিখুঁতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়, তা তাঁকে কারিগরি দল বিস্তারিতভাবে বোঝায়। জাপানের উন্নত শিল্পোৎপাদন কৌশল এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনের কার্যক্রম দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়েও সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

এই পরিদর্শনের সময় টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাহিকো মোয়েদা ছাড়াও টয়োটা সুশো করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোবিলিটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী শিগেরু হারাদা এবং চিফ অপারেটিং অফিসার শিনিচিরো ওতসুকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখান। জাপানি এই শীর্ষ নির্বাহীরা বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ি উৎপাদনের নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কার্যাঞ্চল সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং প্রেস উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজের ভোтаধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সকালে নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং এরপর নির্ধারিত সময়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একজন ভোটার হিসেবে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম কেন্দ্রেই ইতিবাচক পরিবেশ পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অন্যান্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান যে সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বিধায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দিনভর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন এবং কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হলে তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনেরই দায়িত্ব। আবহাওয়ায় কিছুটা বৃষ্টির আভাস থাকলেও ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এলাকার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মোট ৯৮৯টি বুথে সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজিবি সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া নির্বাচনী বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা তাৎক্ষণিকভাবে দমনে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি বিশেষ অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা মাঠে তৎপর ছিলেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করে গেছে।