খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে পিস্তলের ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়

পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজপথের সংগ্রাম ও মেয়র নির্বাচনের দৌড় দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অবস্থান তৈরি করেছিলেন ইশরাক হোসেন। প্রথম দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর আসন পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা ছাড়তে হচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে চালানো সেই অভিযানের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই আজ সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইশরাক জানান যে তিনি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের মাধ্যমে ১৮ বছর পর ক্ষমতায় ফেরে বিএনপি। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার বা বাহাদুরি প্রদর্শনের বিপরীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংযত আচরণের বিষয়ে জনমনে গভীর প্রত্যাশা তৈরি হয়। সরকারের এই মেয়াদে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গত মাসেই মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জেরে দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ইশরাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ পেল, যা ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করেই রাজনীতিতে পা রাখেন তাঁর ছেলে ইশরাক। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর বাবার প্রয়াণের পর তিনি পুরান ঢাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিদেশে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হন এবং ঢাকা দক্ষিণের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে হারের পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন গেজেট জারি করে। কিন্তু তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শপথ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মেয়রের দায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর সমর্থকেরা নগর ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে নাগরিক সেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হয়। সে সময় ইশরাক নিজেও সেখানে গিয়ে নিজ উদ্যোগে শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি দেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও ভোটাধিকার রক্ষার যুক্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়রের দায়িত্ব পাননি, উল্টো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অপরিণামদর্শিতার কারণে দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচিত হন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি ছিলেন। সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আপত্তি তুলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বদলে ক্ষুব্ধ হয়ে ইশরাক বলেন, ‘আপনারা কি নিজেদের জাহির করার জন্য এসেছেন? ডকুমেন্টারি দেখানোর জন্য এসেছেন? কী করছেন আপনারা? শহীদদের জন্য কী করেছেন? শহীদদের জন্য আপনারা কিছুই করেননি।’ এতে হট্টগোল বাড়লে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেন সবাইকে শান্ত করেন। এছাড়া গত জুলাইয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি ইশরাকও সামরিক কায়দায় স্যালুট দিয়ে ট্রলের শিকার হন। তখন ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি লিখেছিলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা উঠলে শ্রদ্ধায় আমার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্যালুটে উঠে যায়। আমার হাত দিয়ে আমি বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট দিয়েছি। হাত আমার, সম্মান জানিয়েছি সর্বজনশ্রদ্ধেয় বীরদের। দেশ আমার গণতান্ত্রিক; আমার ইচ্ছায় আমি স্যালুট দিয়েছি। যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাব।’

বিশ্লেষকদের মতে, গেন্ডারিয়ার মাদকবিরোধী অভিযানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো আচরণ এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের অতিরিক্ত প্রবণতাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘ইশরাকের কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরিপক্বতা, হামবড়া ভাবের একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর পরিণতিবোধের অভাবের কারণে সরকারের বদনাম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য একটা কড়া বার্তা।’ তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর এই ঘটনা দলীয় পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের জবাবদিহিতার নীতিকেই তুলে ধরছে। একই সাথে গেন্ডারিয়ার ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও সার্বিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহলে।

advertisement
advertisement

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

জয়ের আশা বিএনপির প্রার্থীর, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও এক আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। সকালের দিকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা ভোট দেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপনির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন এবং দিনশেষে তাদের পক্ষেই বিজয় আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে এই উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোটদান শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটির অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে নির্ধারিত ছবি অনুপস্থিত রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থীর অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান সফরকালে দেশটির অন্যতম শীর্ষ গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি নাগোয়া অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ সরকারের সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানি এই মোটর কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। কারখানার আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সরাসরি দেখার জন্য এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কারখানার ভেতরে বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গাড়ি সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। কীভাবে নিখুঁতভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়, তা তাঁকে কারিগরি দল বিস্তারিতভাবে বোঝায়। জাপানের উন্নত শিল্পোৎপাদন কৌশল এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনের কার্যক্রম দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়েও সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

এই পরিদর্শনের সময় টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাহিকো মোয়েদা ছাড়াও টয়োটা সুশো করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মোবিলিটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী শিগেরু হারাদা এবং চিফ অপারেটিং অফিসার শিনিচিরো ওতসুকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখান। জাপানি এই শীর্ষ নির্বাহীরা বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ি উৎপাদনের নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কার্যাঞ্চল সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং প্রেস উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নিজের ভোтаধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সকালে নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং এরপর নির্ধারিত সময়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একজন ভোটার হিসেবে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম কেন্দ্রেই ইতিবাচক পরিবেশ পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অন্যান্য ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান যে সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বিধায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দিনভর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন এবং কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হলে তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনেরই দায়িত্ব। আবহাওয়ায় কিছুটা বৃষ্টির আভাস থাকলেও ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এলাকার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মোট ৯৮৯টি বুথে সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজিবি সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া নির্বাচনী বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা তাৎক্ষণিকভাবে দমনে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি বিশেষ অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা মাঠে তৎপর ছিলেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করে গেছে।