খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ইতালির গ্রন্থাগারে নবম শতাব্দীর পাণ্ডুলিপিতে মিলল ইংরেজি ভাষার আদি কবিতার মূল পাঠ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইতালির গ্রন্থাগারে নবম শতাব্দীর পাণ্ডুলিপিতে মিলল ইংরেজি ভাষার আদি কবিতার মূল পাঠ

আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের একদল গবেষক ইতালির রোমের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে নবম শতাব্দীর একটি বইয়ের ডিজিটাল কপি ঘাঁটছিলেন

হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ কীভাবে ইংরেজিতে কথা বলত, তা জানতে আগ্রহী? আধুনিক ইংরেজির সঙ্গে প্রাচীন ইংরেজির বিস্তর ফারাক ছিল। সম্প্রতি গবেষকদের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার তাঁদের বিস্মিত করেছে। ইতালির একটি প্রাচীন গ্রন্থাগারের বইয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইংরেজি ভাষার প্রাচীনতম কবিতাটি এখন মূল রূপে উন্মোচিত হয়েছে।

আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছর আগে ইংল্যান্ডের হুইটবি অঞ্চলের এক সাধারণ রাখাল, ক্যাডমন, এই কবিতার রচয়িতা। তিনি কোনো প্রথাগত কবি বা লেখক ছিলেন না; তাঁর দিন কাটত খামারের কাজে। কিন্তু একদিন এক রাতে তিনি এক স্বপ্ন দেখেন, যা থেকে জেগে উঠে তিনি অদ্ভুত এক অনুপ্রেরণা লাভ করেন এবং আপন মনে একটি কবিতা রচনা করেন। মাত্র ৯ লাইনের এই কবিতাটিই আজ 'ক্যাডমন্স হিমন' বা 'ক্যাডমনের স্তবগান' নামে পরিচিত এবং এটি ইংরেজি ভাষার প্রাচীনতম কবিতা হিসেবে ইংরেজি সাহিত্যের সূচনা বলে বিবেচিত হয়।

ক্যাডমন নিজে অবশ্য তাঁর কবিতাটি লিখে যাননি। তাহলে এটি কীভাবে এতকাল টিকে ছিল? ইংল্যান্ডের সন্ন্যাসী ও পণ্ডিত ভেনেরাবল বিড তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘একলেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি অব দ্য ইংলিশ পিপল’-এ ক্যাডমনের এই কবিতার উল্লেখ করেছিলেন। তবে বিডের বইয়ের বিভিন্ন সংস্করণে কবিতাটি মূলত লাতিন ভাষায় লিপিবদ্ধ ছিল, এবং প্রাচীন ইংরেজি অনুবাদটি হয়তো পরে কেউ পৃষ্ঠার এক কোণে যোগ করে দিয়েছিলেন বলে মনে করা হতো।

তবে সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষকদের একটি দল ইতালির রোমের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত নবম শতাব্দীর একটি বইয়ের ডিজিটাল কপি পরীক্ষা করার সময় এক অভাবনীয় আবিষ্কার করেন। তাঁরা দেখতে পান যে, বইটির মূল লেখার অংশ হিসেবেই প্রাচীন ইংরেজিতে ক্যাডমনের সেই কবিতাটি লেখা রয়েছে! এটি কোনো পরবর্তী সংযোজন নয়, বরং মূল পাণ্ডুলিপিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। গবেষক এলিসাবেত্তা মানিয়ান্তি এই আবিষ্কার প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের কথা বলার ভাষা হারিয়ে গিয়েছিল! প্রথমবার দেখে আমরা নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।" এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের খবর ‘আর্লি মেডিওভ্যাল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ইটস নেইবারস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ইংরেজি ছিল আধুনিক ইংরেজির আদি রূপ, যা মধ্যযুগের শুরুর দিকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গবেষক মার্ক ফকনার ব্যাখ্যা করেন, "প্রাচীন ইংরেজিতে লেখা অন্যান্য যে সকল রচনা আমরা আজ পর্যন্ত পেয়েছি, সেগুলোর প্রায় সবই দশম বা একাদশ শতাব্দীর। কিন্তু নবম শতাব্দীর এই বইতে পাওয়া ক্যাডমনের কবিতাটি আমাদের প্রাচীন ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। পণ্ডিত বিড তাঁর মূল বইয়ে কবিতাটি লাতিন ভাষায় লিখেছিলেন। কিন্তু এই নতুন পাণ্ডুলিপি থেকে বোঝা যায়, বিড তাঁর বই শেষ করার ১০০ বছরের মধ্যেই মূল প্রাচীন ইংরেজি কবিতাটি আবার লাতিন লেখার ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, সে যুগের পাঠকরাও ইংরেজি ভাষাকে অবহেলা করতেন না।"

কবিতাটি মূলত সৃষ্টিকর্তার মহিমা বর্ণনা করে লেখা, যিনি মানবজাতির জন্য এই চমৎকার পৃথিবী তৈরি করেছেন। কবিতাটির আধুনিক ইংরেজি রূপ নিচে দেওয়া হলো:
‘Now let us praise heaven-kingdoms guardian,
The maker's might and his mind's thoughts,
The work of the glory-father—of every wonder,
Eternal Lord. He established a beginning.
He first shaped for men's sons
Heaven as a roof, the holy creator
Then middle-earth mankind's guardian,
Eternal Lord, afterwards prepared
The earth for men, the Lord Almighty.’

বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়:
‘চলো, এখন আমরা স্বর্গরাজ্যের রক্ষাকর্তার প্রশংসা করি,
সেই স্রষ্টার শক্তি এবং তাঁর মনের ভাবনার,
মহিমান্বিত পিতার কাজ—সকল বিস্ময়ের,
অনন্ত ঈশ্বর। তিনিই একটি সূচনা করেছিলেন।
তিনি প্রথমে মানবসন্তানদের জন্য আকার দিলেন
ছাদ হিসেবে এই স্বর্গের, সেই পবিত্র স্রষ্টা
তারপর এই মধ্যপৃথিবীর, মানবজাতির রক্ষাকর্তা,
অনন্ত ঈশ্বর, এরপর প্রস্তুত করলেন
মানুষের জন্য এই পৃথিবী, সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।’

এই তথ্য সায়েন্টিফিক আমেরিকান সূত্র থেকে প্রাপ্ত।

advertisement
advertisement

আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার

আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার

অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের কারখানা সম্প্রতি পরিদর্শন করেছে জার্মানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার এবং স্টেট সেক্রেটারি বারবেল কোফলারের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি কারখানা চত্বরে এসে পৌঁছায়। শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কর্মপরিবেশ সরাসরি দেখার উদ্দেশ্যে তাদের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানায় পৌঁছানোর পর বিদেশি অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মোমিন। এ সময় স্বাগতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অতিথিদের কাছে কারখানার সার্বিক কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিক এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে বারবেল কোফলারের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ। তাছাড়া জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও প্রতিনিধিদলে অংশ নেন। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের এই উপস্থিতির ফলে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সফরের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক পরিদর্শন বাংলাদেশের ভারী শিল্প খাতের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে বহির্বিশ্বে আরও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে সম্প্রতি উদ্ভূত যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাপানের টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার প্রাক্কালে উড়োজাহাজটিতে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে ছেড়ে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের যেকোনো কারিগরি ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই চার সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গঠিত এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বিমানের চিফ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং। এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন এবং ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি, আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন একজন আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক। এই দলটি উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির সঠিক প্রকৃতি নির্ণয়, বিমানটির উড্ডয়ন উপযোগিতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং এর ফলে সৃষ্ট যাত্রীদের ভোগান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ক্ষতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে।

এর আগে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিজি-৩৭৭ নম্বর ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা থাকলেও স্পয়লারে ত্রুটির সংকেত পাওয়ায় পাইলট তা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে বিমানটিকে দ্রুত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি জাপানি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন। প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফ্লাইটটি নিরাপদে ঢাকার পথে রওনা হয়।

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

রাজনীতি ডেস্ক: যে দেশের সাধারণ মানুষ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান শুনতে ভালোবাসে এবং কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার ধানসিঁড়ি নদীর রূপকল্প খুঁজে বেড়ায়, সেই একই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কেন এত নির্মমতা ও কঠোরতার প্রকাশ ঘটে, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের শিল্পিত ও সংস্কৃতিমনস্ক মানসিকতার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষার এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। এই অমিলের উত্তর খুঁজতে হলে মূলত দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমা এবং ক্ষমতার পালাবদলের পেছনের নানা ঘটনার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠকে পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা প্রায়শই একটি বক্সিং রিংয়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন, যেখানে নীতিগত বিতর্ক বা আদর্শের লড়াইয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার মানসিকতাই বেশি প্রবল থাকে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বক্তৃতায় প্রতিনিয়ত যে ধরনের কর্কশ ভাষা, কটূক্তি এবং চরম হুংকার শোনা যায়, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এই আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক আচরণ কেবল নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা অতি দ্রুত তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের রাজনীতি কখনোই সম্পূর্ণ মসৃণ ছিল না বরং বারবার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সামরিক শাসন এবং সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে এক ধরনের সংঘাতময় পথ বেছে নিয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজনীতির স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে শিকড় গেড়েছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে শত্রু হিসেবে গণ্য করার এই প্রবণতাই রাজনীতির ময়দানকে প্রতিনিয়ত উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ করে রাখছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাজনীতির ভাষাকে মার্জিত ও জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বারবার ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। সাধারণ মানুষ বরাবরই একটি শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ প্রত্যাশা করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের এই মারমুখী অবস্থান তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির পরিবেশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।