খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে?

এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে?

শিক্ষা ডেস্ক: বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি এবং সমমান পরীক্ষার ফলাফলে একটি বড় বিপর্যয় দেখা গেছে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় মাত্র বাহান্ন দশমিক বারো শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। এর অর্থ হলো, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই এবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশজুড়ে এমন ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরীক্ষায় এমন বিপর্যয়ের পেছনে বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান ও ক্লাসে উপস্থিতির হার কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অভ্যাস ও মনোনিবেশে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী কলেজমুখী না হয়ে ঘরোয়া কোচিং বা নোট গাইডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা তাদের প্রকৃত জ্ঞানার্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও খাতা দেখার পদ্ধতিতে কিছু কড়াকড়ি বা পরিবর্তনের কারণেও পাসের হার হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষা বা বিগত কয়েক বছরের বিশেষ ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ভীতি এবং দুর্বলতা বরাবরের মতোই এবারও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এই করুণ ফলাফলের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিক্ষক এবং অভিভাবকদের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরও এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে আগামী দিনে এমন হতাশাজনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। নিয়মিত তদারকি, ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং পাঠদানের মান বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আরও সুরক্ষিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

advertisement
advertisement

‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

জাতীয় ডেস্ক: কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগে পুলিশের সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে যোগ না দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চাকরি হারায়েছেন এমন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অবহেলা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অন্যান্য নিয়মাবলি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের মুদ্রা বাজারে হঠাৎ করেই মার্কিন ডলারের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। মূলত বিভিন্ন ছুটির দিন এবং সার্বিক পরিস্থিতির কারণে নগদ ডলারের পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও এর দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই দাম বাড়ার ফলে শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক আমদানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর বিনিময় মূল্যও দেশীয় মুদ্রার বিপরীতে কিছুটা চড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে নগদ ডলার বিক্রি করছে তুলনামূলক বেশি দামে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পর্যালোচনা করলে এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে ডলার কেনার চেয়ে বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক বেশি দর রাখছে। ব্যাংকভেদে নগদ ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা থেকে শুরু করে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। একই সঙ্গে আমদানির কাজে ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলোর নিজেদের মধ্যে লেনদেন হওয়া ডলারের দামও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোর আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর প্রতি ডলারে প্রায় ১২৪ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ব্যাংকিং খাতের তুলনায় খুচরা ও খোলাবাজারে ডলারের দাম আরও বেশ কিছুটা চড়া রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম উঠেছে। মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ডলার ক্রয়ের সময় কিছুটা কম দাম দিলেও বিক্রির ক্ষেত্রে চড়া মূল্য নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে বিদেশ থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে।

যাত্রী আসা-যাওয়া কমে যাওয়ার ফলে খোলাবাজারে নগদ ডলারের একধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কিছুদিন আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাতেও ঠিক একই সময়ের ব্যবধানে ডলারের দামে সমপরিমাণ উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে ডলারের এই অব্যাহত দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিদেশগামী যাত্রী এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

ব্যাংকের ৩৭ বছরের কর্মজীবনে প্রথম মন্দা দেখছি

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক খাতের দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবে সৃষ্ট সংকটের কারণে অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক খাত থেকে লাগামহীনভাবে অর্থ বের করে নেওয়ার কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হলেও সেগুলোর পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলেও ব্যাংকিং খাতের ক্ষত সারাতে আরও বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন। শুধু ব্যাংকিং সংস্কার করলেই পুরো অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না, বরং এর জন্য রাজস্ব খাতের দুর্বলতা কাটানো অত্যন্ত জরুরি। কর ও জিডিপির অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার দশা হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং গ্যাস অনুসন্ধানসহ প্রধান প্রধান খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই শীর্ষ ব্যাংকার। তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা দোষীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর কারখানা ও ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোও চাপে রয়েছে। তবে ভালো ব্যাংকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণপত্র খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ৩৭ বছরের ব্যাংকিং জীবনে তিনি এবারই প্রথম দেশের অর্থনীতিতে প্রকৃত মন্দা পরিস্থিতি দেখছেন বলে জানান। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত সমাজের একটি অংশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের একত্রীকরণ অনিবার্য হয়ে উঠবে এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সুশাসন ও শক্ত নীতিমালার বিকল্প নেই।