খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নের জন্য রাজপথে লংমার্চ না করে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতগুলো শিথিল করতে হলে আলোচনার মাধ্যমেই তা করতে হবে এবং এর জন্য বিরোধী দলকে নির্দিষ্ট ফোরামে আসতে হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট এবং বাকশাল বিষয়ক ওই সেমিনারে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সনদের সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি না থাকলেও এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক সমঝোতা যেকোনো আইনি ভিত্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ পর্যায়ে যখন এই সনদের আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তখন সব পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমেই বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান। ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন বা জুলাই জাদুঘর তৈরির পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যম, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও তারুণ্যের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য তিনি বিরোধী দলসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার করা সম্ভব হলে তা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পথ চিরতরে বন্ধ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংসদীয় কমিটির প্রধান পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার সুপারিশ করার পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য দ্রুত নিরপেক্ষ আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। এ ছাড়া বাকশাল ও চতুর্থ সংশোধনীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময় এক ব্যক্তির হাতে সর্বময় ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে মূলত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সকল সাংবিধানিক বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আরও অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ে কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ে কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ে কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু

শিক্ষা ডেস্ক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহের তিন বছর মেয়াদি স্নাতক বা পাস ডিগ্রি প্রোগ্রামের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষাক্রম আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মোট ১৯টি বিষয়ের সিলেবাস যুগোপযোগী করার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করে আউটকাম বেজড এডুকেশন ভিত্তিক এই কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যেই মূলত এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি গাজীপুরে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রামের কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়ন শীর্ষক এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এই কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা এই সিলেবাস উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের যৌথ অংশগ্রহণে আধুনিক পাঠ্যসূচি প্রণয়নের এই কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানান যে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধ্যয়নরত প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রতিবছর পাস করা পাঁচ থেকে ছয় লাখ গ্র্যাজুয়েটের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। তাছাড়া আইন ও বিএডসহ বিভিন্ন বিষয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন এবং অধিভুক্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপাচার্য আরও বলেন যে বিভিন্ন বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র তৈরি এবং আধুনিক সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নানা ধরনের পারিপার্শ্বিক চ্যালেঞ্জ ও চাপ থাকা সত্ত্বেও একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই যুগোপযোগী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে নিজেদের সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন যে কারিকুলাম প্রণয়ন, ভ্যালিডেশন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে যেকোনো বাধা মোকাবিলা করে যুগান্তকারী এই উদ্যোগ সফল করতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত পাসের হারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিগত পাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে এবারই এই বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে। গত বছরের তুলনায় এই পাসের হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কম হওয়ায় শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর এই বোর্ড থেকে মাত্র দুই হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় তিন হাজার ১৬৮ জন কম। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন একশ চৌদ্দটি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুইশ আশিটি কলেজের প্রায় ছিয়ানব্বই হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ছিল সাতচল্লিশ দশমিক ছয় দুই শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ছিল তিপ্পান্ন দশমিক আট নয় শতাংশ।

ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজিতে পাসের হার মাত্র পঁয়ষট্টি দশমিক সাত সাত শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল, যা অন্য যেকোনো বিষয়ের তুলনায় সবচেয়ে কম। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল একটি বিষয়ে ফেল করেছে বাইশ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। বিষয়ভিত্তিক এই বড় হোঁচট সামগ্রিক ফলাফলকে মারাত্মকভাবে পেছনের দিকে টেনে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ফলাফল তুলনামূলক ভালো হলেও পার্বত্য জেলাগুলোর করুণ দশা পুরো বোর্ডের গড় ফলাফলকে ডুবিয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে পাসের হার ছেষট্টি দশমিক দুই শূন্য শতাংশ থাকলেও কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলার চিত্র ছিল হতাশাজনক। কক্সবাজারে তেতাল্লিশ দশমিক তিন চার শতাংশ, রাঙামাটিতে তেত্রিশ দশমিক দুই চার শতাংশ, বান্দরবানে একচল্লিশ দশমিক চার দুই শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে মাত্র ঊনত্রিশ দশমিক আট পাঁচ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফলাফলের এই নিম্নগতির পেছনে একাধিক জটিল কারণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে শিক্ষাগত পিছিয়ে পড়া অবস্থা এবং ইংরেজি বিষয়ের মতো জনবহুল বিষয়ে কম পাসের হারই চট্টগ্রাম বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলকে তলানিতে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

সরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ার

সরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান সরকারের বিগত আট মাসের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। সম্প্রতি যশোরের মুড়লী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো অব্যাহত রয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কেবল ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের পরিচয় পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন ও দুর্ভোগের চিত্র একই রয়ে গেছে।

সভায় বক্তৃতাকালে তিনি দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন খাতে দখলদারিত্বের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে সার, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিগত এক দশকে যা ঘটেছিল, বর্তমান প্রশাসন মাত্র আট মাসেই তার চেয়েও বেশি ক্ষতিসাধন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছিল, তা আজ অস্বীকার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও জনগণের ম্যান্ডেট কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন যে লংমার্চ করার যৌক্তিক পরিস্থিতি সরকার নিজেই তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক সংকট এড়াতে আগামী সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনো সময় রয়েছে ভুল শুধরে নেওয়ার। সংবিধান সংশোধনীর একদলীয় মানসিকতা পরিহার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ মানুষ রাজপথে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে বাধ্য হবে এবং প্রয়োজনে রাজনৈতিক শক্তিকে লাল কার্ড দেখানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।