বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে নবমসহ বিভিন্ন গ্রেডে চাকরির সুযোগ
বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে নবমসহ বিভিন্ন গ্রেডে চাকরির সুযোগ
বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে নবমসহ বিভিন্ন গ্রেডে চাকরির সুযোগ
সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে রোগ নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন বা লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোভাযাত্রার পর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী সোরিয়াসিস রোগ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে সোরিয়াসিস কোনো অবস্থাতেই কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্য বা সমাজের মানুষ দূরত্ব বজায় রাখেন, যা মোটেও কাম্য নয়। এই ধরনের অবহেলা বা বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংবেদনশীল ও স্বাভাবিক আচরণ করা উচিত। সাধারণ মানুষের মাঝে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চিকিৎসক সমাজের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে এই রোগের শারীরিক জটিলতা এবং সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি জানান যে সোরিয়াসিসে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পরবর্তীতে আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় এই আর্থ্রাইটিস শনাক্ত করা সম্ভব হলে এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু অবহেলা করা হলে এই আর্থ্রাইটিস মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং মানুষের মেরুদণ্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত করে চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে। যুগের অগ্রগতির সঙ্গে এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক আধুনিক পদ্ধতি চলে এসেছে, যা ব্যবহার করে রোগীরা সুস্থ জীবন কাটাতে পারেন।
সেমিনারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডার্মাটোলজিস্টরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন শতাধিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সেমিনারে অংশ নেন এবং সোরিয়াসিসের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ও মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মোহনগঞ্জে আমন ধানে ফিরেছে প্রাণ, কৃষকের মুখে হাসি
জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা অনাবৃষ্টির পর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আমন ধানের মাঠে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এখানকার উঁচু অঞ্চলের ধানখেতগুলোতে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়েছিল। সেসময় ফসল বাঁচাতে স্থানীয় কৃষকদের গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর ভরসা করতে হতো, যা তাদের উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েক দফা বৃষ্টিকৃষকদের সেই চরম দুর্ভাবনা দূর করে দিয়েছে।
প্রকৃতির এই রূপবদলে উপজেলার মাঘান সিয়াদার, বরতলী বানিয়াহারী, সমাজ সহিলদেও, তেতুলিয়া, বড়কাশিয়া বিরামপুর, গাগলাজুর ও সুয়াইর ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার কৃষিজমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। মাঠে থাকা ব্রি ৩৯, ব্রি ৪৯, ব্রি ২২, ব্রি ৩৪, কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া জাতের ধানগাছগুলো বৃষ্টির ছোঁয়ায় দারুণ সতেজ হয়ে উঠেছে। এসব খেতের বেশিরভাগ ধানগাছ বর্তমানে কাইচ থোড় বা শীষ বের হওয়ার আগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়াতে ধানের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো হবে বলে কৃষকেরা আশাবাদী।
খুরশিমুল গ্রামের কৃষক অসিত সরকার জানান, অনাবৃষ্টির কারণে যখন ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। ধানগাছগুলো এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বড় হচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তারা ভালো ফলনের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। উলুকান্দা গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, আকাশের এই আশীর্বাদমূলক বৃষ্টিতে তাদের সেচ বাবদ অতিরিক্ত খরচ অনেকাংশে বেঁচে গেছে। মাঠের বর্তমান সজীব রূপ দেখে কৃষকদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পুরো নেত্রকোণা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এই বৃষ্টিকে আমন চাষের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও উপকারী বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বৃষ্টির এই পানি জমির মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনেছে, যা ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্ট দানা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
এ বছরই চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
স্বাস্থ্য ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ শেষ হয়ে পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি উল্লেখ করেন যে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় বসে একযোগে এই পাঁচটি আধুনিক হাসপাতালের শুভউদ্বোধন করবেন। দুইশ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালগুলো চালুর ফলে দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো চালু হওয়ায় প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ বড় উপকৃত হবে।
বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও জানান যে, এই হাসপাতালগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃজন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহের কাজও প্রায় শেষের পথে রয়েছে। বিগত দিনে বিভিন্ন জটিলতার কারণে হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব না হলেও বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা এখন জেলা পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা রাজধানীতে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল শয্যাসংখ্যা কাগজে-কলমে বাড়ানো হলেও সেই অনুপատ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা জনবল বাড়ানো হয়নি। মূলত জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই তৎকালীন সময়ে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বর্তমান প্রশাসন এই হাসপাতালটিকে প্রকৃত অর্থে বারোশ সাধারণ শয্যা এবং একশ আইসিইউ শয্যার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই হাসপাতালের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
রাজশাহীর স্থানীয় স্বাস্থ্য সমস্যা ও অন্যান্য অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, পদ্মা নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে সাপের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকায় অনেক রোগী আসেন, যাদের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে লিফট স্থাপনে অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান যে, ত্রুটিপূর্ণ লিফট সরবরাহের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরিদর্শনকালে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন