খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন: ইউএনও কার্যালয়ের ব্যতিক্রমী বার্তা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন: ইউএনও কার্যালয়ের ব্যতিক্রমী বার্তা

অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন: ইউএনও কার্যালয়ের ব্যতিক্রমী বার্তা

জাতীয় ডেস্ক: সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি দপ্তরের দরজা আরও উন্মুক্ত করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা গেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে সেখানকার প্রবেশদ্বারে টাঙানো হয়েছে একটি বিশেষ বার্তা, যেখানে বলা হয়েছে অফিসে ঢুকতে কোনো পূর্বানুমতি লাগবে না এবং জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। এই অভিনব পদক্ষেপটি সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেশ কৌতূহল ও ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই মূলত এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে মূলত সেবাপ্রত্যাশীদের জুতা বাইরে রেখে যাওয়ার প্রচলিত বাধ্যবাধকতা এবং কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের আগে আলাদাভাবে অনুমতি নেওয়ার বিড়ম্বনা পুরোপুরি দূর করা হয়েছে। সাধারণত সরকারি কার্যালয়গুলোতে সাধারণ মানুষ একধরনের মানসিক দ্বিধা ও সংকোচ নিয়ে প্রবেশ করেন, যা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই বার্তাটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ছোট্ট এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে সরকারি দপ্তরগুলো মূলত জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই পরিচালিত হয়ে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন থেকে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য ছাড়াই সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে বা ভয়ের কারণে মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হন, যা এই ধরনের উন্মুক্ত পরিবেশের কারণে অনেকটাই কমে আসবে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও মানবিক হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানিয়েছেন যে, সরকারি দপ্তরগুলো জনগণের জন্যই তৈরি এবং এখানকার প্রতিটি কর্মকর্তা জনগণের সেবক মাত্র। সাধারণ মানুষ যেন কোনো রকম ভয়ভীতি বা দ্বিধা ছাড়াই তাঁদের প্রয়োজনীয় চাহিদা ও অভিযোগের কথা খোলামেলাভাবে ব্যক্ত করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই বার্তাটি দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যেন নাগরিকরা সহজে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেটাই তাঁর প্রধান প্রত্যাশা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

advertisement
advertisement

প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

খেলা ডেস্ক: কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে। টেবিল মাউন্টেনের ছায়াঘেরা ২২ গজে এই লড়াই কেবল একটি সাধারণ খেলা নয়, বরং দুই দলের খেলোয়াড়দের ধৈর্য, প্রতি আক্রমণ এবং স্নায়ুশক্তির এক চরম পরীক্ষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ম্যাচের প্রথম থেকেই দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে দারুণ দৃঢ়তা দেখান। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান মাত্র পাঁচ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেও তার নান্দনিক ৯৫ রানের ইনিংসটি দলকে শক্ত ভিত্তি দেয়। এছাড়া ডেভিড বেডিংহামের অর্ধশতক প্রোটিয়াদের একটি নিরাপদ স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে তাদের প্রথম ইনিংস ৩২৯ রানে থেমে যায়। অজি পেসার স্টার্ক ৭২ রান খরচ করে ছয়টি উইকেট শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া তাদের চ্যাম্পিয়ন মানসিকতার দারুণ পরিচয় দেয় এবং ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ম্যাচে চালকের আসনে বসে যায়। দলের এই সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন জস ইংলিশ, যার চমৎকার শতকটি দলের ইনিংসকে দারুণ গতি দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি এবং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন, যাদের দায়িত্বশীল ইনিংসগুলো অজিদের লিডকে অনেকদূর এগিয়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার সাইমন হারমার এবং মার্কো ইয়ানসেন যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং দুর্গ ভাঙতে তাদের যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে।

প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উইয়ান মুল্ডার ও রিয়ান রিকেলটনের দুটি দুর্দান্ত শতক ম্যাচের সম্পূর্ণ চিত্রপট পাল্টে দেয়, যেখানে মুল্ডারের ১১৫ এবং রিকেলটনের ১০১ রানের ইনিংস দুটি ছিল বেশ লড়াকু। এছাড়া অ্যাকারম্যানের আরও একটি দায়িত্বশীল অর্ধশতক প্রোটিয়াদের লিডকে এক রোমাঞ্চকর উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে কেপটাউনের এই মহাকাব্যিক টেস্ট ম্যাচটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নাহিদ: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নাহিদ: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই

নাহিদ: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন এবং সরকারের ভেতরে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তাদের পদে বহাল থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তাই আন্দোলনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তাদের অপসারণের জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে।

ছাত্র আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র মেরামতের যে লক্ষ্য নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রশাসনের ভেতর থেকে অদক্ষ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সরাতে হবে। মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন না আনলে সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার তাগিদ দেন তিনি।

এদিকে নাহিদ ইসলামের এই দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ছাত্র নেতৃত্বের এই ধরনের কঠোর অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

শচীন দেবের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শচীন দেবের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শচীন দেবের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বিনোদন ডেস্ক: কুমিল্লায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সুরস্রষ্টা শচীন দেব বর্মণের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে শচীন মেলা। এই আয়োজনের উদ্বোধনী দিনে নগরীর ইউসুফ হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই আনন্দ শোভাযাত্রাটি ঐতিহ্যবাহী শচীন দেব বর্মণের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে কিংবদন্তির স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও মেলার আহ্বায়ক আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং পুরো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম মনিরুজ্জামান, লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক এবং ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল। অনুষ্ঠানে শিশু বক্তা হিসেবে কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইত্তিহাদ আহমেদ নন্দিত বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত সকলের বিশেষ নজর কাড়ে। বক্তারা শচীন দেব বর্মণের অতুলনীয় সংগীত প্রতিভা এবং তাঁর সৃষ্টিশীলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শচীন দেব বর্মণ বাংলা ও হিন্দি সংগীত জগতের এক কালজয়ী ব্যক্তিত্ব যিনি তাঁর সুরের জাদুতে উপমহাদেশে স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছেন। কুমিল্লার কৃতি সন্তান এই শিল্পীর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর সংগীত সাধনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের নিয়মিত আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯০৬ সালের পহেলা অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তির অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান আয়োজকরা।