খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

টাইপ বি ব্যক্তিত্ব: কম চাপ, স্বস্তির জীবন নাকি অলসতার তকমা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টাইপ বি ব্যক্তিত্ব: কম চাপ, স্বস্তির জীবন নাকি অলসতার তকমা

টাইপ বি ব্যক্তিত্ব: কম চাপ, স্বস্তির জীবন নাকি অলসতার তকমা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে যারা সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সহজ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তাদের টাইপ বি ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উচ্চাভিলাষী ও নিখুঁত কাজের তাগিদ অনুভবকারী টাইপ এ ব্যক্তিত্বের মানুষের ঠিক বিপরীত অবস্থানে রয়েছে এই শান্ত স্বভাবের মানুষগুলো। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে হৃদরোগের সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিত্বের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন দুই মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মেয়র ফ্রিডম্যান এবং রে রোজেনম্যান। তাদের হাত ধরেই মূলত এই দুই ধরনের ব্যক্তিত্বের ধারণাটি প্রথমবারের মতো সামনে আসে এবং পরবর্তী সময়ে তা মনোবিজ্ঞানে ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করে।

এই প্রকৃতির মানুষেরা সাধারণত যেকোনো ধরনের চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ এবং ইঁদুর দৌড় এড়িয়ে চলতে ভালোবাসেন। তাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে যেকোনো পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়ার চমৎকার ক্ষমতা এবং তীব্র মানসিক চাপহীন জীবন কাটানোর প্রবণতা। তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ করার মানসিকতা তাদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না এবং অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তারা মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। এছাড়া গতানুগতিক কাজের চেয়ে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও নতুন উপায়ে কাজ করার ঝোঁক তাদের মধ্যে বেশি থাকে। তবে এই চরিত্রের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো কাজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমিয়ে রাখা বা প্রোকাস্টিনেশনের অভ্যাস।

টাইপ বি ব্যক্তিত্বের মানুষের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। কম মানসিক চাপের কারণে তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কম দেখা যায়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে তাদের অতিরিক্ত ঢিলেঢালা স্বভাবের কারণে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবও লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে অনেক সময় তারা নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উদাসীন থাকেন। স্বভাবগতভাবে এরা ভীষণ অমায়িক, ধৈর্যশীল ও ভালো শ্রোতা হয়ে থাকেন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা ঝামেলা এড়াতে পছন্দ করেন। অতিরিক্ত নমনীয়তার কারণে অনেক সময় তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হন এবং সহজেই অন্যের সুযোগ নেওয়ার শিকার হন।

শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের মানুষেরা বেশ ভালো ফলাফল করলেও তাদের শান্ত স্বভাবের জন্য অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির শিকার হতে হয়। অনেক সময় সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের কাজের ধীরগতি দেখে অলস বা অকর্মণ্য হিসেবে ভুল মূল্যায়ন করেন। আধুনিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে এই মানুষেরা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ গতিতে ছোটার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং একটু থেমে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়াও সমানভাবে জরুরি। তবে সফলভাবে জীবন পরিচালনা করতে হলে তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।

কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে সফল হতে হলে এই ব্যক্তিত্বের মানুষদের সময় ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। কাজ শেষ মুহূর্তের জন্য জমিয়ে না রেখে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ছোট ছোট শিডিউল তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। এছাড়া জীবনের লাগাম একদম আলগা না ছেড়ে সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিজেদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদান অন্যদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি, যাতে কেউ তাদের ভুল বুঝতে না পারে।

advertisement
advertisement

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

রাজনীতি ডেস্ক: যে দেশের সাধারণ মানুষ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান শুনতে ভালোবাসে এবং কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার ধানসিঁড়ি নদীর রূপকল্প খুঁজে বেড়ায়, সেই একই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কেন এত নির্মমতা ও কঠোরতার প্রকাশ ঘটে, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের শিল্পিত ও সংস্কৃতিমনস্ক মানসিকতার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষার এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। এই অমিলের উত্তর খুঁজতে হলে মূলত দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমা এবং ক্ষমতার পালাবদলের পেছনের নানা ঘটনার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠকে পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা প্রায়শই একটি বক্সিং রিংয়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন, যেখানে নীতিগত বিতর্ক বা আদর্শের লড়াইয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার মানসিকতাই বেশি প্রবল থাকে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বক্তৃতায় প্রতিনিয়ত যে ধরনের কর্কশ ভাষা, কটূক্তি এবং চরম হুংকার শোনা যায়, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এই আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক আচরণ কেবল নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা অতি দ্রুত তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের রাজনীতি কখনোই সম্পূর্ণ মসৃণ ছিল না বরং বারবার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সামরিক শাসন এবং সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে এক ধরনের সংঘাতময় পথ বেছে নিয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজনীতির স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে শিকড় গেড়েছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে শত্রু হিসেবে গণ্য করার এই প্রবণতাই রাজনীতির ময়দানকে প্রতিনিয়ত উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ করে রাখছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাজনীতির ভাষাকে মার্জিত ও জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বারবার ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। সাধারণ মানুষ বরাবরই একটি শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ প্রত্যাশা করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের এই মারমুখী অবস্থান তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির পরিবেশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা: সেই ওসিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নোটিশ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা: সেই ওসিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নোটিশ

রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা: সেই ওসিকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নোটিশ

আইন-আদালত ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সম্প্রতি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মূলত সেই ঘটনার সূত্র ধরেই ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সমিতির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, দুই হাজার দুই সাল থেকেই তিনি এই আইনজীবী সংগঠনের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সচল রাখা হয়েছিল, মূলত সেই বিষয়টি নিয়েই বর্তমানে সমিতির অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, সংসদ সদস্যের সঙ্গে তর্কের জেরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আলোচনায় আসার পর তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি পুলিশ চাকরিতে নিয়োজিত থেকে কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্যপদ বজায় রাখতে পারেন না, কারণ এটি সংগঠনের প্রচলিত বিধিবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শুধু এই ঘটনাই নয়, আইন পেশায় নিয়মিতভাবে যুক্ত না থেকেও যাঁরা নিজেদের সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, সমিতির পক্ষ থেকে তাঁদের সকলকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে নিয়মের বাইরে থাকা এই ধরনের সকল সদস্যের বিরুদ্ধেই যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আইনজীবী সমিতি সূত্রে আরও জানা গেছে, পেশাদার আইনজীবী নন অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরও সদস্যপদ ধরে রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন সমিতির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংক, বিমা, বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে স্বেচ্ছায় তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমিতির গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী, কেবল আইন বিষয়ে শিক্ষকতা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরাই প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ সচল রাখতে পারবেন বলে নিয়মে বলা আছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পাঠানো এই কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন যে, পুলিশ বাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য যথাযথ আবেদন করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সমিতির পাঠানো নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইতোমধ্যে লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি তাঁর দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা হয় এবং সেই ঘটনার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সাবরিনা পাস্তারস্কি: তাঁকেই কেন বলা হচ্ছে সম্ভাব্য পরবর্তী আইনস্টাইন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাবরিনা পাস্তারস্কি: তাঁকেই কেন বলা হচ্ছে সম্ভাব্য পরবর্তী আইনস্টাইন

সাবরিনা পাস্তারস্কি: তাঁকেই কেন বলা হচ্ছে সম্ভাব্য পরবর্তী আইনস্টাইন

প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাবিশ্বের চালিকাশক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদার্থবিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করে রাখা অন্যতম বড় রহস্য হলো কোয়ান্টাম মহাকর্ষ। সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যার মতো বিজ্ঞানের বিপরীতমুখী দুটি মৌলিক নীতিকে একত্রিত করার এই জটিল প্রচেষ্টায় বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ পদার্থবিজ্ঞানী সাবরিনা পাস্তারস্কি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁকে অনেকেই পরবর্তী আইনস্টাইন হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তিনি এই উপাধিকে বিনয়ের সাথেই নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের তকমা কাজের বড় একটি প্ল্যাটফর্ম পেতে সাহায্য করলেও মূল লক্ষ্য কেবল গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের জটিল ধাঁধা উন্মোচন করা। বর্তমানে কানাডার পেরিমিটার ইনস্টিটিউটে কর্মরত এই বিজ্ঞানী অত্যন্ত নিভৃতে মহাবিশ্বের মৌলিক সত্যগুলো উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর গবেষণার মূল বিষয়বস্তু হলো সেলসেটিয়াল হ্যালোগ্রাফি যা এমন একটি তত্ত্ব, যা দেখায় যে পদার্থবিদ্যার দুটি ভিন্ন বিবরণ কীভাবে প্রকৃতপক্ষে একই বাস্তবতার প্রতিফলন হতে পারে। ১৯৯৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানী হুয়ান মালদাসেনা প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন যে আমাদের ত্রিমাত্রিক বাস্তবতার প্রতিটি ঘটনা বস্তুত দ্বিমাত্রিক কোনো তলের প্রক্ষেপণ বা হলোগ্রাম হতে পারে। তবে মালদাসেনার সেই মডেলটি কার্যকর ছিল কেবল এক ধরনের বিশেষ বাঁকানো স্থান-কালের ক্ষেত্রে। পাস্তারস্কির প্রস্তাবিত সেলসেটিয়াল হ্যালোগ্রাফি তত্ত্বটি মালদাসেনার সেই ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে এনে আমাদের এই বাস্তব ও সমতল মহাবিশ্বের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে।

পাস্তারস্কির মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সমস্ত কোয়ান্টাম কণার সংঘর্ষ ও গতিপ্রকৃতিকে অসীম দূরত্বে থাকা একটি দ্বিমাত্রিক গোলকের ওপর বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে পুরো মহাবিশ্বের চারমাত্রিক পদার্থবিদ্যাকে একটি দ্বিমাত্রিক গোলকীয় সীমানার মাধ্যমে পুনর্গঠন করার গাণিতিক পরিকাঠামো তৈরি করছেন তিনি। বাল্যকাল থেকেই পাস্তারস্কির অসাধারণ মেধার পরিচয় পাওয়া যায় এবং তিনি কৈশোরেই নিজের বিমান নিজে তৈরি করে আকাশে ওড়াতে সক্ষম হন। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পদার্থবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও অন্যের নির্মিত প্রযুক্তি ব্যবস্থার অংশ হওয়ার চেয়ে নিজস্ব গাণিতিক অনুসন্ধানে মন দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত মনে করেন এই মেধাবী গবেষক।

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার এ ধরনের কোয়ান্টাম তত্ত্বসমূহ সচরাচর পরীক্ষা করা বেশ কঠিন হলেও পাস্তারস্কি তাঁর তত্ত্ব প্রমাণের কিছু সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। কৃষ্ণগহ্বরগুলোর সংঘর্ষের সময় স্থান-কালে যে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ তৈরি হয়, তা স্থায়ী কিছু পরিবর্তন রেখে যায় যাকে স্পিন মেমরি ইফেক্ট বলা হয়। পাস্তারস্কির মতে, এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ঘূর্ণন সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি তাঁর দ্বিমাত্রিক সেলসেটিয়াল স্ফিয়ার সংক্রান্ত সমীকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগামী দশকে মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত লিসা নামক মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এই তাত্ত্বিক সূত্রের প্রামাণিক তথ্য খুঁজে পেতে পারে। এছাড়া সার্নের লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারের কণা সংঘাত থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যেও এই নতুন গাণিতিক কাঠামোর উপস্থিতি পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। মহাবিশ্ব সত্যিই কোনো দ্বিমাত্রিক তলের ছায়া নাকি ত্রিমাত্রিক বাস্তবতাই পরম—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গাণিতিকভাবে যদি দুটি বিবরণই সমান ও পারস্পরিক রূপান্তরযোগ্য হয়, তবে দুটির যেকোনো একটিকে সত্য ধরে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।