খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

পাপের প্রকৃত অর্থ, মানবজীবনে এর কুফল ও তা নির্ধারণের ইসলামি দর্শন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাপের প্রকৃত অর্থ, মানবজীবনে এর কুফল ও তা নির্ধারণের ইসলামি দর্শন

আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারা রয়েছে, যেখানে শৈশবে শিশুদের অযৌক্তিক অপরাধবোধ ও আতঙ্কের আবহে বড় করা হয়। সামান্য ভুলের জন্যও বলা হয়ে থাকে যে আল্লাহ কষ্ট পাচ্ছেন কিংবা ফেরেশতারা লজ্জিত হচ্ছেন। এমনকি অনেক বক্তার কণ্ঠেও শোনা যায়, কোনো মানুষ অপরাধ করলে নাকি আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। পাপ থেকে মানুষকে দূরে রাখার নিয়তে এমন কথা বলা হলেও তা বড় ধরনের দার্শনিক বিভ্রান্তি তৈরি করে; কারণ মহান আল্লাহ মানুষের ভুলে কষ্ট পাওয়ার মতো কোনো দুর্বল সত্তা নন। ইসলামের মূল বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ ‘আল-সামাদ’ ও ‘আল-গনি’—তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। মানুষের আনুগত্য বা ইবাদত তাঁর কোনো অভাব মেটায় না, আবার সৃষ্টির কোনো পাপ বা অমান্যতায় তাঁর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না। সব মানুষ ধর্মপরায়ণ হলেও তাঁর সম্মান বাড়ে না, আবার সবাই অবাধ্য হলেও তাঁর ক্ষমতার কোনো হ্রাস ঘটে না। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর সংরক্ষক; তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনের সবকিছুর তিনিই মালিক এবং তাঁর অনুমতি ব্যতীত কারও সুপারিশ করার ক্ষমতা নেই। তিনি সৃষ্টির অগ্র-পশ্চাত সবকিছু জানেন, অথচ তাঁর ইচ্ছার বাইরে তাঁর জ্ঞানের কিছুই মানুষ জানতে পারে না। তাঁর কুরসি আসমান-জমিন জুড়ে বিস্তৃত এবং এগুলোর সুরক্ষা তাঁর জন্য কঠিন নয়; তিনি পরম উচ্চ ও মহান। ইমাম গাজালি তাঁর ‘ইহয়াউ উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে (১/১৬৫, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৮২) উল্লেখ করেছেন, বিশ্বজগতের সমস্ত উপাসনার ঊর্ধ্বে আল্লাহর অবস্থান; মানুষের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই, বরং তা মানুষের নিজের আত্মার শান্তি ও সুস্থতার মাধ্যম।

আল্লাহ যখন আমাদের কোনো আমলের মুখাপেক্ষী নন এবং আমাদের পাপে তাঁর ক্ষতি হয় না, তখন প্রশ্ন ওঠে—পাপ মূলত কী? পাপ কোনো আবেগপ্রবণ সত্তার অসন্তুষ্টি নয়, বরং তা এমন সব কর্ম যা মানুষের নিজের, পরিবারের কিংবা সমাজজীবনের মারাত্মক ক্ষতি ও বিনাশ ডেকে আনে। পরম করুণাময় আল্লাহ মানবজাতিকে এমন সব ধ্বংসাত্মক ফাঁদ সম্পর্কেই সতর্ক করেছেন। যেমন—মদপান, জুয়া, ব্যভিচার, চুরি কিংবা অন্যায়ভাবে হত্যার মতো মহাপাপগুলো শুরুতে ক্ষণস্থায়ী তৃপ্তি বা আনন্দ দিলেও পরিণামে শারীরিক ব্যাধি, পারিবারিক বিপর্যয়, আর্থিক নিঃস্বতা ও সামাজিক বিভেদ ডেকে আনে। নিজের ক্ষতি হলে অন্যের কী সমস্যা—এমন ধারণার বিপরীতে ইসলাম শেখায়, মানুষ নিজের দেহেরও চূড়ান্ত মালিক নয়, বরং তার স্রষ্টা আল্লাহ। সুরা তুরের ৩৫ নম্বর আয়াতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, মানুষ কি কোনো কিছু ছাড়া এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তা? এ বিষয়ে ড. তারিক রমাদান তাঁর ‘ইন দ্য ফুটস্টেপস অব দ্য প্রফেট’ বইয়ে (পৃষ্ঠা ৪৫, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, নিউইয়র্ক, ২০০৭) লিখেছেন, নিজের সৃষ্টি ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যেহেতু মানুষকে স্রষ্টার ওপর নির্ভর করতে হয়, সেহেতু নিজের শরীর বা আত্মাকে ক্ষতিকর কাজে নিয়োজিত করে ধ্বংসের অধিকার তার নেই। একইভাবে কুফর ও শিরক সরাসরি শারীরিক ক্ষতি না করলেও তা মানুষকে জীবনের মূল লক্ষ্য—স্রষ্টাকে জানার মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি লাভ—থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত করে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই পরম সত্যকে অস্বীকার করা নিজের আত্মার প্রতি করা সবচেয়ে বড় অবিচার ও পাপ।

কোনো কাজ আসলেই পাপ কি না, তা যাচাইয়ের মূল মানদণ্ড হলো ‘মাসলাহা’ বা জনকল্যাণ। ইমাম আল-গাজালি তাঁর ‘আল-মুসতসফা মিন ইলম আল-উসুল’ গ্রন্থে (১/২৮৬-২৮৭, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, বৈরুত) উল্লেখ করেন, শরিয়তের সমস্ত নির্দেশনার উদ্দেশ্য পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের হেফাজত নিশ্চিত করা—ধর্ম, জীবন, বংশধারা বা প্রজনন, সম্পদ এবং বিবেক বা বুদ্ধি। এই পাঁচটির যেকোনো একটির জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রতিটি বিষয়ই ইসলামে পাপ হিসেবে গণ্য। বিখ্যাত ইসলামি আইনতাত্ত্বিক তাহির ইবনে আশুর তাঁর ‘মাকাসিদ আল-শরিয়াহ আল-ইসলামিয়াহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৫১, মিনহাজ আদ-দিরাসা, কায়রো) স্পষ্ট করেছেন, মানবজাতির ব্যক্তিগত ও যৌথ ক্ষতি রোধ করাই ইসলামি বিধানের লক্ষ্য। সুতরাং, সুস্থ বিবেক এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় যা কিছু এই মৌলিক কল্যাণ বিনষ্ট করে, তা-ই নিশ্চিতভাবে পাপ। তবে ভুলপ্রবণ মানুষকে ইসলাম কখনো ফেরেশতাতুল্য ভাবেনি। জীবনে বিচ্যুতি ঘটলেও ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে বারণ করে তওবার পথ উন্মুক্ত রেখেছে। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহ তওবাকারীদের এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের ভালোবাসেন। পাশাপাশি সহিহ বুখারির ৬৩০৮ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, কোনো বান্দা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করলে আল্লাহ মরুপ্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া বাহন ও খাদ্য-রসদ ফিরে পাওয়া মুসাফিরের চেয়েও অধিক আনন্দিত হন।

advertisement
advertisement

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচার বিভাগীয় তিন কর্মকর্তাকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে উচ্চ আদালত। সম্প্রতি বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে বিচারকদের এ ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত করা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই নিয়োগের পেছনের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারকদের এই ধরনের প্রেষণে নিয়োগ অতীতেও বিভিন্ন মহলে প্রশ্নবিদের জন্ম দিয়েছিল, যার ফলে বর্তমান আইনি লড়াইটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে এই নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আরও বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আদালতের এই রুল জারির মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্বের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারকদের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের এই প্রবণতা বন্ধে উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অফিসের সময় মেনে না চলার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ই পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিচারকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেরিতে আদালতে প্রবেশ এবং দুপুর গড়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত সময় সঠিকভাবে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। কোনো বিচারক যদি সকাল ১১টায় এসে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ শেষ করে চলে যান, তবে সেই অনিয়ম কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ সময় কড়া ভাষায় তিনি উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধার সুযোগ রাখা হবে না এবং কাজের প্রতি অবহেলা বন্ধ করতে হবে।

তরুণ বিচারকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের বিচারকরা যথেষ্ট মেধাবী ও স্মার্ট। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার মূর্ত প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং ডিজিটাল যুগের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ বিচারকদের আরও বেশি দক্ষ ও দূরদর্শী হতে হবে। মামলার জট কমানোর বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সাড়ে ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা ঝুল রয়েছে, যা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বিচারিক চাপ হ্রাসে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার অংশ হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো ই পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিজিটাল পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মূলত বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক মামলা ডিজিটালি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিচারালয়ে ই-বেইল বন্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা পদ্ধতি চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন। বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে আরও নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলি ধারণ করে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৯ অক্টোবর রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ছয় মাসমেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবীন কর্মকর্তাদের এই মিলনমেলায় পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনীর প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং সেবাপ্রত্যাশী প্রতিটি নাগরিককে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করতে হবে। সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনমানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় জয় করার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকার অর্থে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম বলেও জানান তিনি।

অতীতের বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং মানবিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান যে, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন ক্রয়, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সরবরাহের মতো বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা ও নানা আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করা নবীন কর্মকর্তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বর্তমান সময়ের অপরাধ জগতের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, প্রথাগত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই জটিল অপরাধসমূহ সফলভাবে দমন করতে হলে কেবল গতানুগতিক অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের সাহায্য নিতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পেশিশক্তি বা পক্ষপাতিত্বের পথ পরিহার করে শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকারী এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সম্মাননা পদক ও পুরস্কার তুলে দেন। ২৭তম সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচ মিলিয়ে মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মজীবন শুরু করলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পুলিশ সদস্যদের কাজের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। পরিশেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের দেশের নিরাপত্তায় একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।