খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জাতিসংঘের সতর্কতা: আসছে 'সুপার এল নিনো', কয়েক দশকের মধ্যে তীব্রতম হওয়ার আশঙ্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাতিসংঘের সতর্কতা: আসছে 'সুপার এল নিনো', কয়েক দশকের মধ্যে তীব্রতম হওয়ার আশঙ্কা

এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরা দেখা দিতে পারে

জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রাকৃতিক 'এল নিনো' আবহাওয়ার একটি নতুন পর্যায় শুরু হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) মঙ্গলবার জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই চাপের মুখে থাকা পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ডব্লিউএমও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বের বিশাল অংশজুড়ে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া বয়ে আনবে। কয়েকটি দেশের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে, যাকে সম্ভাব্য 'সুপার' এল নিনো হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন হলো এল নিনো।

ডব্লিউএমও-এর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, "আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যা খরা ও ভারী বৃষ্টির প্রকোপ বাড়াবে এবং স্থল ও মহাসাগর উভয় ক্ষেত্রেই তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।" সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, মহাসাগরের উষ্ণ জলরাশি এল নিনো তৈরিতে ভূমিকা রাখছে এবং জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই এল নিনো আগামী নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই আবহাওয়াবিন্যাস আঞ্চলিক জলবায়ুকে বিপর্যস্ত করার জন্য পরিচিত, যা বিশ্বজুড়ে উষ্ণ তাপমাত্রা বয়ে আনার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, হর্ন অব আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াতে পারে। এর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরা দেখা দিতে পারে এবং মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হারিকেন বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে।

সাউলো আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৩-২৪ সালের সাম্প্রতিক এল নিনো ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড গড়তে ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এই এল নিনোর আগমন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৩ এপ্রিল রাজশাহীতে চৈত্রের খরতাপ থেকে বাঁচতে মানুষকে মাথায় গামছা জড়িয়ে সাইকেল চালাতে দেখা গেছে, যা বর্তমান তাপপ্রবাহের তীব্রতাকেই তুলে ধরে।

তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে ডব্লিউএমও-এর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, "প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ইতিমধ্যে আমাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে মারাত্মক জলবায়ু সংকটের একটি। একটি এল নিনো পরিস্থিতি এই হুমকিকে আরও তীব্র করতে পারে। ফলে তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি, পতঙ্গবাহী রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানিব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, যেসব জনগোষ্ঠী ইতিমধ্যে সংকটে রয়েছে, তারা আরও বেশি সীমার বাইরে চলে যাবে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এল নিনো পরিস্থিতি তৈরির ইঙ্গিত দেয়।

কিছু দেশের আবহাওয়া সংস্থা ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এশিয়াজুড়ে আরও গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা ফসল ও খাদ্য সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সারসংকট ও জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে কৃষকেরা ইতিমধ্যে সংকটে রয়েছেন।

তবে, ডব্লিউএমও বলেছে যে, এল নিনোর তীব্রতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, কিছু মডেল শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস দিচ্ছে না।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বের এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু–সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণ হতে থাকা বিশ্বে আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করবে।

advertisement
advertisement

উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন। এটিকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এই উপনির্বাচনকে সমান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে উপনির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল সরাসরি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে সংঘাতময় সংস্কৃতি থেকে বের করে এনে একটি উৎসবমুখর ও আনন্দদায়ক পরিবেশে রূপান্তরিত করতে চায় কমিশন। একটি সুন্দর এবং ইতিবাচক নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য, যার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোট চলাকালীন যেকোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। এবারের উপনির্বাচনে বিভিন্ন দলের মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং ভোটাররা তাদের মধ্য থেকে তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচার বিভাগীয় তিন কর্মকর্তাকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে উচ্চ আদালত। সম্প্রতি বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে বিচারকদের এ ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত করা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই নিয়োগের পেছনের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারকদের এই ধরনের প্রেষণে নিয়োগ অতীতেও বিভিন্ন মহলে প্রশ্নবিদের জন্ম দিয়েছিল, যার ফলে বর্তমান আইনি লড়াইটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে এই নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আরও বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আদালতের এই রুল জারির মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্বের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারকদের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের এই প্রবণতা বন্ধে উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অফিসের সময় মেনে না চলার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ই পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিচারকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেরিতে আদালতে প্রবেশ এবং দুপুর গড়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত সময় সঠিকভাবে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। কোনো বিচারক যদি সকাল ১১টায় এসে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ শেষ করে চলে যান, তবে সেই অনিয়ম কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ সময় কড়া ভাষায় তিনি উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধার সুযোগ রাখা হবে না এবং কাজের প্রতি অবহেলা বন্ধ করতে হবে।

তরুণ বিচারকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের বিচারকরা যথেষ্ট মেধাবী ও স্মার্ট। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার মূর্ত প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং ডিজিটাল যুগের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ বিচারকদের আরও বেশি দক্ষ ও দূরদর্শী হতে হবে। মামলার জট কমানোর বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সাড়ে ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা ঝুল রয়েছে, যা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বিচারিক চাপ হ্রাসে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার অংশ হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো ই পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিজিটাল পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মূলত বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক মামলা ডিজিটালি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিচারালয়ে ই-বেইল বন্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা পদ্ধতি চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন। বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে আরও নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।