বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সম্প্রতি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছিল 'বিস্ময়ের অভিযাত্রী, কাননের কোকিল'। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাস্তবায়িত এই আয়োজনে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ জয় করা শিল্পীরা তাদের প্রতিভার দ্যুতি ছড়ান। আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সমাজের মূলধারার সাথে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই সুইড বাংলাদেশের শিল্পীরা 'মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি' শিরোনামে একটি চমৎকার সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন, যার কোরিওগ্রাফি করেছিলেন রেশমী আবেদীন। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান 'আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন' গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ল্যাবরেটরি মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা অমিত হাসানের নির্দেশনায় 'এই রাঙামাটির পথে লো' গানের সাথে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। এছাড়া শারমিন আক্তার শিকু ও সায়মা শারমিন ইমার একক সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে এক্সপ্রেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির শিল্পীরা রাফিয়া খন্দকারের পরিচালনায় 'বিহুর এ লগন মধুর এ লগন' শিরোনামের সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। এ ছাড়া শান্ত রহমানের একক সংগীত 'আমার স্বপ্নগুলো কেন এমন হয়' এবং শাহিন রেজা রাসেলের একক আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে আনন্দিত করে। সবশেষে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় 'আয় তব সহচরি হাতে হাতে ধরি' সমবেত নৃত্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্বের সমাপ্তি ঘটে। সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় এই আয়োজনে বিভিন্ন স্তরের বহু দর্শক উপস্থিত হয়ে শিল্পীদের উৎসাহ জোগায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন সরকারি সংগীত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলেয়া পারভীন। যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের সৃজনশীল বিকাশ ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।