খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান রোধ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশের সংবিধান সংশোধনের কাজটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রকে সুরক্ষার জন্য বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা, একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি রূপ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন সত্তা অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকর সব তদারকি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত তুলে ধরেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

আলোচনায় অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমেই মূলত দেশে সাংবিধানিক সংকট এবং স্বৈরতন্ত্রের বীজ রোপিত হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিকেও তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা শেষ পর্যন্ত চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল।

ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে রূপরেখা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, নতুন রাজনৈতিক ধারায় জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহিও সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় আনতে হবে যাতে কোনো একক প্রতিষ্ঠান অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হতে না পারে। এছাড়া উচ্চকক্ষ চালুর বিষয়টি ছাড়াও নির্বাচন ব্যবস্থায় সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং গণভোটের বিধান চালুর ক্ষেত্রে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দেন তিনি।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন যে প্রশাসন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিভাজনের পক্ষে নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে পুরোপুরি ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলসহ আপামর জনসাধারণের পারস্পরিক ঐক্য একান্ত প্রয়োজন। আলাপ-আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই কেবল একটি টেকসই ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

advertisement
advertisement

আমার দেশ ছেঁড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আমার দেশ ছেঁড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

আমার দেশ ছেঁড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

জাতীয় ডেস্ক: একটি জাতীয় দৈনিকের কপি জনসমক্ষে ছিঁড়ে ফেলার তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি একটি লাইভ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক সহকারী বহুল প্রচারিত আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং এর মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাক ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

<ু

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, একটি প্রভাবশালী দৈনিকের সংখ্যা জনসমক্ষে অবমূল্যায়ন করা কেবল ওই পত্রিকার প্রতি অসম্মান নয়, বরং এটি সমগ্র গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। এই ধরনের আচরণ দেশের মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তবে তা সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম ভীতি ও শঙ্কার সৃষ্টি করবে। অতীতে যেভাবে সরকারি হস্তক্ষেপে গণমাধ্যম বন্ধের সংস্কৃতি চালু ছিল, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই পুরনো শঙ্কা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মিডিয়াকে তালাবদ্ধ করার এটি একটি পূর্বনির্ধারিত আলামত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি ওই রাজনৈতিক সহায়কের বক্তব্যে দলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে এমন ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক আচরণ করার পেছনে কোনো উচ্চপর্যায়ের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের সেই সংশয় দূর করতে এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহলের স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছে দলটি।

এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে?

এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে?

শিক্ষা ডেস্ক: বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি এবং সমমান পরীক্ষার ফলাফলে একটি বড় বিপর্যয় দেখা গেছে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় মাত্র বাহান্ন দশমিক বারো শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। এর অর্থ হলো, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই এবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশজুড়ে এমন ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরীক্ষায় এমন বিপর্যয়ের পেছনে বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান ও ক্লাসে উপস্থিতির হার কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অভ্যাস ও মনোনিবেশে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী কলেজমুখী না হয়ে ঘরোয়া কোচিং বা নোট গাইডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা তাদের প্রকৃত জ্ঞানার্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও খাতা দেখার পদ্ধতিতে কিছু কড়াকড়ি বা পরিবর্তনের কারণেও পাসের হার হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষা বা বিগত কয়েক বছরের বিশেষ ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ভীতি এবং দুর্বলতা বরাবরের মতোই এবারও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এই করুণ ফলাফলের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিক্ষক এবং অভিভাবকদের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরও এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে আগামী দিনে এমন হতাশাজনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। নিয়মিত তদারকি, ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং পাঠদানের মান বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আরও সুরক্ষিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পিএসসির নতুন সদস্য ড. শামীমা সুলতানার শপথ আগামীকাল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পিএসসির নতুন সদস্য ড. শামীমা সুলতানার শপথ আগামীকাল

পিএসসির নতুন সদস্য ড. শামীমা সুলতানার শপথ আগামীকাল

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বা পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সাংবিধানিক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং এর কাজের পরিধি আরও সুচারুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার এই যোগদান কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী রবিবার বিকেল তিনটায় নবনিযুক্ত এই সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট বিচারপতির পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সম্মানিত সদস্যরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া সরকারের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠান শেষে নবনিযুক্ত সদস্য ড. শামীমা সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে তার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন।

উল্লেখ্য, পিএসসির মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ড. শামীমা সুলতানার দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এই কমিশনের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে পিএসসির নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।