খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

রং, নকশা, বুননে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রং, নকশা, বুননে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম

রং, নকশা, বুননে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম

ফিচার ডেস্ক: দেশের প্রান্তিক এলাকার ভূমিহীন মানুষের যাপিত জীবন, চারপাশের প্রকৃতি এবং সংগ্রামের গল্প নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। রাজধানী ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে প্রান্তিকের কল্পজগৎ। অধিকারভিত্তিক সংগঠন নিজেরা করির পথচলার পঁয়তাল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনটির বিভিন্ন শাখার সদস্য এবং তাদের পরিবারের শিশু ও কিশোরেরা এসব শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

সম্প্রতি আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী অধ্যাপক আবুল বার্ক আলভী এবং খুলনার ভূমিহীন নেত্রী রাহেলা বেগম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, সংগঠনটি শুরু থেকেই প্রান্তিক মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে। তারা কোনো ধরনের আর্থিক সাহায্য বা ঋণ বিতরণের পরিবর্তে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং সম্মিলিতভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে থাকেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনটির হাজার হাজার ভূমিহীন দল সক্রিয় রয়েছে যেখানে লাখ লাখ সদস্য নানা সামাজিক ও নাগরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।

এই প্রদর্শনীতে প্রান্তিক মানুষের সহজাত সৃজনশীলতার চমৎকার প্রকাশ ঘটেছে যেখানে মূলত তিন ধরনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। শিশুরা খবরের কাগজের ওপর নানা বিষয়ের ছবি এঁকেছে এবং বড় আকারের কাপড়ের ওপর অ্যাপ্লিকের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা দৃশ্য। নকশিকাঁথার আদলে তৈরি এই বিশাল কাজগুলোতে উঠে এসেছে সবজি বিক্রেতা, ফুল, পাখি, শহীদ মিনার ও গ্রামীণ জনপদের নানা চিত্র। এ ছাড়া কাপড় ও তুলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পুতুল এবং জামদানি শাড়ির ওপর অ্যাপ্লিকের মাধ্যমে নারীদের অধিকার ও সমতার দাবিগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট এবং জলপুতুল পাপেটসের শিল্পীরা এই শিল্পকর্ম তৈরিতে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করেছেন।

প্রদর্শনীটির কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেছেন বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের ট্রাস্টি শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান। তিনি জানান, দেশের কয়েকটি অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে এই শিল্পকর্মগুলো তৈরি করা হয়েছে যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণ নিজেদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও জীবনঅভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার বাইরে থাকা এসব মানুষের নিখাদ শিল্পকর্ম দর্শকদের মাঝে আলাদা এক অনুভূতির জন্ম দিচ্ছে। এই প্রদর্শনীটি নির্ধারিত দিন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে এবং সমাপনী দিনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিবেশনায় নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।

advertisement
advertisement

খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই

খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই

শিক্ষা ডেস্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত ৩৭ দফা দাবির বেশিরভাগই দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফটকের নামকরণ এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কিছু পরিবর্তন আসলেও আবাসন সংকট, জমি অধিগ্রহণ, লাইব্রেরি ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক দাবিগুলো ঝুলে রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে এসব দাবি পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ৩৭ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে প্রধান ফটকের নাম পরিবর্তন করে শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ রাখা এবং পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালুর দাবি আংশিকভাবে রক্ষা করা হলেও বাকিগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। এর মধ্যে শহীদদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণের কাজও স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে আবাসিক হলের আসনসংখ্যা না বাড়ায় শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো অধরা রয়ে গেছে। চারুকলা স্কুলের জন্য স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিগুলোও দীর্ঘ সময় ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে এবং পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে অন্যান্য দাবিগুলোর অবস্থাও বেশ হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি এবং হলভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কোনো ফোরাম গঠিত হয়নি। এমনকি চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, বিনাসুদে শিক্ষাঋণ প্রদান, ক্যারিয়ার প্লেসমেন্ট সেন্টার এবং একটি স্বতন্ত্র অভিযোগ সেল গঠনের দাবিগুলো এখনো আলোর মুখ দেখেনি। পরীক্ষার নম্বর বিন্যাসে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত রূপরেখা পুরোপুরি না মেনে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন প্রশাসন তাদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের বড় অভিযোগ হলো, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হচ্ছে না। কোন কোন দাবি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, কোনগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে এবং নীতিগত বা আর্থিক কী ধরনের জটিলতার কারণে বাকিগুলো আটকে আছে—তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে। যেসব বিষয় দ্রুত সমাধানযোগ্য ছিল তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অবকাঠামোগত ও অর্থায়নসংশ্লিষ্ট জটিল দাবিগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি'অর অব অলটাইম’ জয় রোনালদোর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি'অর অব অলটাইম’ জয় রোনালদোর

মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি'অর অব অলটাইম’ জয় রোনালদোর

খেলা ডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চিরন্তন লড়াইয়ে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। বিশ্ব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি অরের সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সম্প্রতি একটি বিশেষ অনলাইন ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছিল। প্রখ্যাত ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল এবং ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফা যৌথভাবে এই অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

গত মাসের শুরুর দিকে শুরু হওয়া এই অনলাইন ভোটে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভক্তদের প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো করে খরচ করতে হয়েছিল এবং প্রতিযোগিতায় তাদের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জানা যায় যে, ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই সেরা নির্বাচিত হয়েছে। ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি অর জয় করা সেই স্মরণীয় মৌসুমটিই ভক্তদের রায়ে সর্বকালের সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

অন্যদিকে, এই ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার জাদুকর লিওনেল মেসি। ২০১২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ৯১ গোল করার অনন্য ঐতিহাসিক মৌসুমটির সুবাদে তিনি তালিকার দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। আয়োজকদের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, শীর্ষ বারোটি মৌসুমের প্রতিটিই কেবল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান আধুনিক ফুটবলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এই দুই কিংবদন্তির নিরঙ্কুশ আধিপত্যের সত্যতা আবারও জোরালোভাবে প্রমাণ করে।

এদিকে শীর্ষস্থানগুলোতে এই দুই তারকার রাজত্ব থাকলেও তালিকার একটু নিচেই জায়গা করে নিয়েছেন অন্য এক কিংবদন্তি। ব্রাজিলীয় ফুটবল জাদুকর রোনালদো নাজারিওর ২০০২ সালের ব্যালন ডি অর জয়ী মৌসুমটি এই বিশেষ তালিকায় ত্রয়োদশ অবস্থানে রয়েছে। ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা ও আনন্দ সৃষ্টি করলেও আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ খেতাবের জন্য কোনো নতুন বা আলাদা ট্রফি প্রদান করা হবে না। মূলত ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে সেরা মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই প্রতীকী ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছিল।

কালোবাজারে সার বিক্রির সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা আটক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কালোবাজারে সার বিক্রির সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা আটক

কালোবাজারে সার বিক্রির সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা আটক

জাতীয় ডেস্ক: ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না করে রাতের অন্ধকারে পাচারের সময় এক ডিলারকে আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। অভিযুক্ত ওই ডিলারের নাম ইলিয়াস হাওলাদার এবং তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে বেশি মুনাফার আশায় এই সার কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে একটি ট্রাকে থাকা বিশাল পরিমাণ সার ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বাহনটি জব্দ করা সম্ভব হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি উপজেলার মালিগ্রাম বাজার এলাকায় নিজ গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ ডিএপি সার ট্রাকে তোলার কাজ চালাচ্ছিলেন ওই ডিলার। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত একত্রিত হয়ে ট্রাকটি ঘিরে ফেলেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই ভাঙ্গা থানা পুলিশ এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার পর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে প্রায় আড়াই শ বস্তা সার জব্দ করে এবং অভিযুক্ত ডিলারকে হেফাজতে নেয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতীতে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এই সার ডিলারশিপের লাইসেন্স পেয়েছিলেন অভিযুক্ত ইলিয়াস হাওলাদার। কৃষক পর্যায়ে সারের কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এমন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সার বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কালোবাজারি রোধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার ফলেই ডিলারদের এমন অবৈধ কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন জানিয়েছেন, কৃষকদের অধিকার রক্ষায় এবং সারের অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে কৃষি বিভাগ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জব্দকৃত সাড়ে ১২ টন সার ও ট্রাকসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।